শংসাপত্র পুনর্যাচাইয়ে বড় ধাক্কা! রাজ্যের এসসি, এসটি, ওবিসি বিজ্ঞপ্তিতে সরাসরি স্থগিতাদেশ হাইকোর্টের!

পশ্চিমবঙ্গের অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দফতর গত ১৪ মে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল। সংশ্লিষ্ট সেই বিজ্ঞপ্তিতে ২০১১ সালের পর থেকে রাজ্যজুড়ে ইস্যু হওয়া সমস্ত এসসি, এসটি এবং ওবিসি জাতিগত শংসাপত্র পুনর্যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। রাজ্যের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়। এই মামলার প্রেক্ষিতে এবার ১৪ ই মের জাতিগত শংসাপত্র সংক্রান্ত রাজ্য সরকারের সেই বিতর্কিত বিজ্ঞপ্তির ওপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ জারি করল কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ।
সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তিতে রাজ্য সরকার জানিয়েছিল যে, জাতিগত শংসাপত্র যদি ভুয়ো প্রমাণিত হয়, সে ক্ষেত্রে তা সঙ্গে সঙ্গে বাতিল করা হবে। রাজ্যের এই সিদ্ধান্তের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়। মামলাকারীর পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য সওয়াল করেন যে, রাজ্যের এই ধরনের কোনও সাংবিধানিক বা আইনি ক্ষমতা নেই যে তারা সরাসরি এই শংসাপত্রগুলি বাতিল করতে পারে।
এর পাল্টা হিসেবে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র আদালতে সওয়াল করে জানান যে, রাজ্য সরকার ভোটার কার্ড, আধার কার্ড সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি এবং জাতিগত পারিবারিক বিষয়কে সুচারুভাবে যাচাই করে এই ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেই পারে।
উভয় পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর প্রধান বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে, জাতিগত শংসাপত্র পুনর্যাচাইয়ের এই বিজ্ঞপ্তির ওপরে অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে। আদালতের পক্ষ থেকে আরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, এই মামলার সম্পূর্ণ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এসসি, এসটি ও ওবিসি ক্যাটাগরির মানুষদের ক্ষেত্রে কোনও রকম বড় পরিসরে যাচাইকরণ প্রক্রিয়া চালানো যাবে না। তবে আদালতের এই নির্দেশের পরেও একটি বিশেষ ক্ষেত্রে ছাড় রাখা হয়েছে। বলা হয়েছে, রাজ্যের কাছে যদি নির্দিষ্ট কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আসে, তবে সেই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরা আইন অনুযায়ী যথাযথ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবেন। এই রায়ের ফলে রাজ্যের অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দফতরের এই মে মাসের বিজ্ঞপ্তি আপাতত আইনি জাঁতাকলে আটকে গেল।