তৃণমূলের অন্দরে চরম অস্বস্তি! প্রবীণ নেতা আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের এমন বড় পদক্ষেপের নেপথ্যে কী?

রাজ্য রাজনীতির অন্দরে গভীর শোক ও তীব্র রাজনৈতিক অসন্তোষের আবহ তৈরি হয়েছে। জীবনের এই প্রান্তে এসে বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা, পাঁচ বারের বিধায়ক তথা বিধানসভার প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের এমন একটি বড় পদক্ষেপ রাজ্যজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। ঠিক কী এমন পরিস্থিতি তৈরি হলো যার জেরে তাঁকে এমন সিদ্ধান্ত নিতে হলো, তা নিয়ে এখন জোর চর্চা চলছে রাজনৈতিক মহলে। এই পুরো ঘটনার প্রেক্ষাপটে গত ২১ জুলাই বীরভূম থেকে কলকাতায় যাওয়ার পথে শক্তিগড়ে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। ওই ভিডিওতে বর্ধমান উত্তরের এক মণ্ডল সভাপতিকে প্রবীণ নেতা আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে অত্যন্ত অপমানজনক মন্তব্য করতে শোনা গিয়েছিল, যা নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়ে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকরা।

এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় ইতিমধ্যেই সরব হয়েছে দলের কালীঘাট শিবির। প্রবীণ সাংসদ সৌগত রায় এই বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, একদম পরিষ্কার জীবনযাত্রা এবং পরিষ্কার রাজনৈতিক জীবন ছিল তাঁর। আমি যতটুকু শুনেছি, বিজেপির কিছু লোক ওনার সম্বন্ধে কটূক্তি করেছিল। উনি অত্যন্ত সংবেদনশীল মনের মানুষ ছিলেন, তাই এই অপমান তাঁর পক্ষে সহ্য করা সম্ভব হয়নি এবং সেই কারণেই তিনি এমন পথ বেছে নিয়েছেন। অন্যদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধীরাও তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে। বিরোধী নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের দাবি তুলে বিস্ফোরক মন্তব্য করে বলেছেন, আমাদের জোরালোভাবে মনে হয়েছে এটি একটি প্রাতিষ্ঠানিক খুন, তাই এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া অত্যন্ত জরুরি।

অন্যদিকে, এই পুরো পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্য সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। খোদ মুখ্যমন্ত্রী এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, স্বাভাবিকভাবেই কেউ তাঁকে ব্ল্যাকমেলিং করে থাকতে পারে। এগুলো সম্পূর্ণভাবে পুলিশের কার্যপরিধিভুক্ত বিষয়, পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখছে এবং মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড বা চ্যাট থেকে কোনো চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যায় কি না, তা পুলিশ তদন্ত করে দেখবে। প্রবীণ ও অভিজ্ঞ এক নেতার প্রতি এমন অপমানজনক আচরণ এবং তার জেরে তৈরি হওয়া এই রাজনৈতিক সংকট আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিতে যে বড় ধরণের প্রভাব ফেলতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য। ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখতে এবং সত্যতা সামনে আনতে পুলিশ প্রশাসনের তরফ থেকেও জোরদার তদন্ত শুরু হয়েছে।