২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার শেষবেলায় ভবানীপুরের মিত্র ইনস্টিটিউশনে ভোট দিলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে ভোটদান শেষে তাঁর গলায় ছিল ক্ষোভ আর যন্ত্রণার সুর। গত চার দশকের রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা টেনে এনে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে একগুচ্ছ বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন তিনি।
“মহিলা-শিশুদেরও মারছে সেন্ট্রাল ফোর্স”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় বাহিনী এবার সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছে। বুথ থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সামনে তিনি দাবি করেন:
শারীরিক নিগ্রহ: “সেন্ট্রাল ফোর্স মানুষকে যাতা ভাবে মারছে। মহিলাদের মেরেছে, এমনকি ছোট বাচ্চাদেরও রেহাই দেয়নি ওরা। কাল রাত থেকে এই তাণ্ডব চলছে।”
আইন লঙ্ঘন: আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও তৃণমূল কর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, “এটা সরাসরি আদালত অবমাননা।”
পাক্ষিক আচরণ: মমতার প্রশ্ন, “বাহিনীর কাজ আইন-শৃঙ্খলা দেখা, কিন্তু ওরা একটা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে (বিজেপি) জেতাতে কাজ করছে।”
আরামবাগ থেকে ক্যানিং— অশান্তির খতিয়ান
শুধুমাত্র নিজের কেন্দ্র ভবানীপুর নয়, রাজ্যের একাধিক প্রান্তের অশান্তির ছবি এদিন নিজের ফোনে সাংবাদিকদের দেখান মমতা। তাঁর দাবি:
আরামবাগ, খানাকুল, গোঘাট এবং ক্যানিং (পূর্ব ও পশ্চিম) এলাকায় তৃণমূলের পোলিং এজেন্টদের বুথ থেকে জোর করে বের করে দেওয়া হয়েছে।
রাসবিহারী ও ভবানীপুরেও ভোটারদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
“আমি ১৯৮৪ সাল থেকে ভোট লড়ছি। অনেক চড়াই-উতরাই দেখেছি, কিন্তু মানুষের ওপর এমন অত্যাচার আমি আগে কখনও দেখিনি। ইজ দিস ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার ইলেকশন? স্বচ্ছতা কোথায় থাকল?” — মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শান্ত থাকার আর্জি ও জয়ের হুঙ্কার
সব বাধা সত্ত্বেও কর্মীদের শান্ত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, “এত অত্যাচারের পরেও মানুষ আমাদেরই ভোট দিচ্ছে। আমরাই ক্ষমতায় আসছি, তৃণমূলই জিতছে।” নিজের পাড়ায় রাজ্য পুলিশ না থাকা এবং সর্বত্র কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলেও, ফলাফলের বিষয়ে তিনি ১০০ শতাংশ আত্মবিশ্বাসী।
বাংলার রাজনীতিতে মমতার এই অভিযোগ কি নির্বাচনের মোড় ঘুরিয়ে দেবে? না কি ৪ মে-র ফলাফল অন্য কথা বলবে? সারা দেশের নজর এখন সেদিকেই।





