বিধানসভা নির্বাচনের কাউন্টডাউন শুরু। তার ঠিক আগে রাজ্যের ভোটার তালিকা নিয়ে বড়সড় তথ্য দিল নির্বাচন কমিশন। খসড়া তালিকা প্রকাশ থেকে মনোনয়ন জমার শেষ দিন পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৭ লক্ষ নতুন ভোটারের নাম যুক্ত হয়েছে। তবে এই খুশির খবরের মাঝেও একটি দুশ্চিন্তার ভাঁজ ফুটেছে কমিশনের পরিসংখ্যানে— তা হলো মহিলা ভোটারের আনুপাতিক হার হ্রাস।
এক নজরে নতুন ভোটারের খতিয়ান
কমিশন সূত্রে খবর, ফর্ম-৬-এর মাধ্যমে জমা পড়া আবেদনের ভিত্তিতে যাচাই-বাছাই শেষে বিপুল সংখ্যক নতুন মুখ ভোটার তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে।
মোট নতুন ভোটার: ৬ লক্ষ ৯৬ হাজার ৮২৪ জন।
প্রথম দফায় সংযোজন: ৩ লক্ষ ২২ হাজার ১৭ জন।
দ্বিতীয় দফায় সংযোজন: ৩ লক্ষ ৮৭ হাজার ৭৪৭ জন।
২০২৬-এর মোট ভোটার সংখ্যা: বর্তমানে রাজ্যে মোট ভোটার দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ৮২ লক্ষ ৫১ হাজার ৮ জন।
কোন জেলায় ভোটার বাড়ল সবচেয়ে বেশি?
নতুন ভোটারের নিরিখে শহর এবং শহরতলি পাল্লা দিচ্ছে একে অপরকে। জেলা ভিত্তিক পরিসংখ্যানে শীর্ষ তালিকায় রয়েছে: ১. উত্তর ২৪ পরগনা: এখানে ৭১ হাজারেরও বেশি নতুন নাম যুক্ত হয়েছে। ২. কলকাতা: প্রায় ৪৪ হাজার নতুন ভোটারের সংযোজন ঘটেছে। এছাড়াও হাওড়া, হুগলি এবং পূর্ব মেদিনীপুরে ভোটার বাড়ার হার বেশ উল্লেখযোগ্য।
মহিলা ভোটার নিয়ে উদ্বেগজনক প্রবণতা
কমিশনের তথ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের সময় থেকেই দেখা যাচ্ছে, পুরুষদের তুলনায় মহিলা ভোটারের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি হারে কমছে। বর্তমান হিসেব অনুযায়ী:
পুরুষ ভোটার: ৩ কোটি ৪৯ লক্ষের বেশি।
মহিলা ভোটার: ৩ কোটি ৩৩ লক্ষের কিছু বেশি।
তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার: ১,২৫৭ জন।
কেন এই পরিবর্তন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন ভোটারদের সিংহভাগই ১৮-১৯ বছর বয়সী তরুণ-তরুণী। তবে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া বা ঠিকানার পরিবর্তনের কারণে মহিলা ভোটারের সংখ্যা কিছুটা কমে থাকতে পারে। কমিশন জানিয়েছে, ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মামলাগুলি নিষ্পত্তি হলে ভোটার সংখ্যায় আরও কিছুটা রদবদল ঘটতে পারে।
নির্বাচনের আগে এই ৭ লক্ষ নতুন ভোটারের রায় কোন দিকে যায়, এখন সেটাই সব দলের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে যে জেলাগুলিতে ভোটার সংখ্যা হু হু করে বেড়েছে, সেখানে রাজনৈতিক সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়, তা জানা যাবে আগামী ৪ মে।





