ক্রমবর্ধমান জ্বালানির দাম এবং আকাশছোঁয়া রক্ষণাবেক্ষণ খরচে যখন সাধারণ মানুষের পকেট খালি হওয়ার জোগাড়, ঠিক তখনই আমজনতার জন্য বড়সড় সুখবর নিয়ে এল সরকার। বাজারে এখন ইলেকট্রিক ভেহিকেল বা ইভি-র চাহিদা তুঙ্গে। পরিবেশ দূষণ রোধ এবং জ্বালানির বিকল্প হিসেবে সরকারও ক্রমাগত ইভি ব্যবহারের ওপর জোর দিচ্ছে। এবার এই পরিবেশবান্ধব গাড়ি কেনাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে এক দুর্দান্ত আর্থিক সহায়তার কথা ঘোষণা করা হয়েছে।
বিশেষ করে মহিলারা যদি ইলেকট্রিক গাড়ি কেনেন, তবে সরকারের পক্ষ থেকে সরাসরি ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে। বিহার সরকার রাজ্যের নারীদের স্বাবলম্বী করতে এবং গ্রিন এনার্জির প্রসার ঘটাতে এই যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সরকারের মূল লক্ষ্য হলো, আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে রাজ্যে যত নতুন গাড়ি নথিভুক্ত বা রেজিস্ট্রেশন হবে, তার অন্তত ৩০ শতাংশ যেন ইলেকট্রিক গাড়ি হয়। এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতেই চলতি বছরে নতুন ইভি পলিসি বা ইলেকট্রিক যান নীতি অনুমোদন করেছে বিহার সরকার।
নতুন এই নিয়মে বলা হয়েছে, মহিলারা চার চাকার ইলেকট্রিক গাড়ি কিনলে এককালীন ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ভর্তুকি পাবেন। তবে শুধু চার চাকার গাড়িই নয়, মহিলারা যদি ইলেকট্রিক স্কুটি বা বাইক কেনেন, তাহলেও মিলবে বড় ছাড়। দুই চাকার বৈদ্যুতিক যানের ক্ষেত্রে সাধারণ বা জেনারেল ক্যাটেগরির উপভোক্তারা ১০ হাজার টাকা এবং তফসিলি জাতি ও উপজাতি (SC/ST) সম্প্রদায়ের উপভোক্তারা ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পাবেন। এই দু-চাকার গাড়ির সুবিধা অবশ্য পুরুষ ও মহিলা উভয় ক্রেতাই পাবেন।
অন্যদিকে, কেউ যদি তিন চাকার ইলেকট্রিক গাড়ি কেনেন, তার জন্যও রয়েছে বিশেষ প্যাকেজ। তিন চাকার ইভি কেনার ক্ষেত্রে জেনারেল ক্যাটেগরির ক্রেতারা ৫০ হাজার টাকা এবং তফসিলি জাতি ও উপজাতিভুক্ত ক্রেতারা ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত সরকারি অনুদান পাবেন। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত স্বচ্ছ রাখা হবে এবং ‘ডিরেক্ট বেনেফিট ট্রান্সফার’ বা ডিবিটি (DBT) ব্যবস্থার মাধ্যমে সরাসরি উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠিয়ে দেওয়া হবে। বাণিজ্যিক বা কমার্শিয়াল গাড়ি রেজিস্ট্রেশনের পরেই যেমন এই সুবিধা পাওয়া যাবে, ঠিক তেমনই মহিলারা যদি ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য নন-কমার্শিয়াল ইভি কেনেন, তারাও এই মোটা অঙ্কের আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন না।





