মহামেডান বাঁচাতে মরিয়া পদক্ষেপ, সরাসরি দুই বিধায়কের দ্বারস্থ সাদা-কালো শিবির, নড়েচড়ে বসল ময়দান

শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী ক্লাব মহামেডান স্পোর্টিং এখন অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে শামিল। দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকট, ফুটবলারদের বকেয়া বেতন এবং আইএসএলে ভরাডুবির পর ক্লাবকে পুনরুজ্জীবিত করতে এবার এক অভূতপূর্ব পদক্ষেপ নিলেন সাদা-কালো কর্তারা। রেড রোডের ধারের এই ক্লাবের আর্থিক অচলাবস্থা কাটাতে এবার রাজ্যের দুই বিধায়ক, নওশাদ সিদ্দিকী এবং হুমায়ুন কবীরের দ্বারস্থ হলেন ক্লাবের কর্মকর্তারা।
গত কয়েক বছরে বাঙ্কারহিল এবং অন্যান্য লগ্নিকারী সংস্থা ক্লাবে এলেও সমস্যার সমাধান তো হয়নি, বরং জটিলতা বেড়েছে। লগ্নিকারী সংস্থার অসহযোগিতার কারণে ফুটবলার, কোচ এবং ক্লাবের কর্মীদের দীর্ঘদিনের বেতন বকেয়া রয়েছে। এমনকী ভেন্ডারদের পাওনা না মেটানোর কারণে ক্লাবের ওপর ফিফার নিষেধাজ্ঞার খাঁড়াও নেমেছিল। কোনোমতে নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে আইএসএল খেললেও, মাঠে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে দল। একটিও ম্যাচ জিততে না পেরে অবনমনের আওতা থেকে মুক্তি পায়নি তারা। এই পরিস্থিতি থেকেই ক্লাবের সম্মান ফেরাতে মরিয়া সচিব ইস্তেয়াক রাজু আহমেদ এবং কার্যকরী সভাপতি কামারউদ্দিন আহমেদ।
সম্প্রতি শোনা গিয়েছিল, বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী এবং হুমায়ুন কবীর মহামেডান ক্লাবের এই দুর্দিনে পাশে দাঁড়াতে এবং নতুন স্পনসর আনার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এই খবর কানে আসতেই দেরি করেননি ক্লাব কর্তারা। বিধায়কদের সরকারিভাবে চিঠি পাঠিয়ে ক্লাবের বর্তমান বেহাল দশা এবং তাঁদের পরিকল্পনা জানতে চাওয়া হয়েছে। নওশাদ সিদ্দিকীকে লেখা চিঠিতে ক্লাব কর্তারা জানতে চেয়েছেন, তিনি যে ক্লাবের উন্নতির জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ করতে চাইছেন, তার রূপরেখা কী? ইনভেস্টর নিয়ে তাঁর বৃহত্তর ভাবনা কী? অন্যদিকে, হুমায়ুন কবীরকে লেখা চিঠিতে তাঁকে সরাসরি ক্লাব প্রশাসনে যোগ দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার আর্জি জানানো হয়েছে। আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতাকে ক্লাবে এসে কর্তাদের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসার আমন্ত্রণও জানানো হয়েছে।
পাশাপাশি, বাঙ্কারহিল কর্তা দীপক সিংকেও চূড়ান্ত অবস্থান জানতে চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ক্লাব সচিব ইস্তেয়াক রাজু আহমেদ সাফ জানিয়েছেন, ক্লাবের প্রতিটি সদস্য এবং সমর্থকরা এখন উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন। তাই সোশ্যাল মিডিয়া বা সূত্রের মাধ্যমে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাঁরা বসে থাকতে চান না। তাঁরা সরাসরি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে কথা বলে ক্লাবের ভবিষ্যতের একটি স্পষ্ট দিশা পেতে চান।
সাদা-কালো কর্তারা অবশ্য কেবল বিধায়কদের ওপরই ভরসা করে বসে নেই। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে তাঁরা রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দরবারেও যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ময়দানের ঐতিহ্যের প্রশ্নে এখন কোনো রাখঢাক নয়, বরং কড়া প্রশাসনিক হস্তক্ষপই কাম্য বলে মনে করছেন মহামেডানের আপামর সমর্থক এবং শুভানুধ্যায়ীরা।