গুরুগ্রামে একা থাকার মাসুল কত? ২১ বছরের তরুণীর ৪৩ হাজারের মাসিক খরচের হিসাব দেখে চোখ কপালে তুলছেন নেটিজেনরা!

গুরুগ্রামের মতো মেগাসিটিতে একা বসবাস করা আপাতদৃষ্টিতে অত্যন্ত রোমাঞ্চকর এবং আধুনিক জীবনের প্রতীক মনে হতে পারে, কিন্তু বাস্তবক্ষেত্রে এর অর্থনৈতিক চাপ যে কতটা মারাত্মক হতে পারে, তা সম্প্রতি এক তরুণীর শেয়ার করা হিসাব থেকে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আজকাল সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে চাহাত যাদব নামের এক ২১ বছর বয়সি তরুণীর একটি ভিডিও ঝড়ের বেগে ভাইরাল হয়েছে, যেখানে তিনি নিজের গত জুলাই মাসের সম্পূর্ণ মাসিক খরচের একটি বিস্তারিত হিসাব তুলে ধরেছেন। এই ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসতেই নেটপাড়ায় শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। সাধারণ মানুষের মনে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, আজকের দিনে দাঁড়িয়ে দেশের অন্যতম ব্যয়বহুল বাণিজ্যিক শহরে তরুণ-তরুণীদের জীবনযাত্রার খরচ কি সত্যিই এতখানি নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে?
চাহাত যাদবের পেশ করা ওই মাসিক বাজেটের ভেতরে কোনো ধরনের দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় বা বিনিয়োগের অঙ্ক যুক্ত নেই। সমস্ত খরচই সম্পূর্ণভাবে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা এবং মৌলিক চাহিদা মেটানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। তাঁর সেই খরচের খতিয়ান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ব্যয়ের তালিকার সিংহভাগ জুড়েই রয়েছে বাড়ি ভাড়া। একটি সম্পূর্ণ আসবাবপত্রযুক্ত (Furnished) ১ বিএইচকে (1 BHK) ফ্ল্যাটে থাকার সুবাদে তাঁকে একাই ভাড়া বাবদ গুণতে হয়েছে ১৫,০০০ টাকা। এর ঠিক পরেই রয়েছে পোশাক-আশাক এবং বিভিন্ন আনুষঙ্গিক শৌখিন জিনিসের খরচ, যার পরিমাণ প্রায় ১২,৮০৫ টাকা। অন্যদিকে, নিত্যদিনের খাবার, মুদিখানার বাজার এবং বিভিন্ন ফুড ডেলিভারি অ্যাপের মাধ্যমে অনলাইন অর্ডারের পেছনে মোট খরচ হয়েছে ৬,৮৭৯ টাকা।
পাশাপাশি, বাসস্থান সংক্রান্ত অন্যান্য ব্যয়ের মধ্যে বিদ্যুতের বিল এসেছে ঠিক ২,০০০ টাকা। যাতায়াত ব্যবস্থার জন্য নিজস্ব স্কুটার রক্ষণাবেক্ষণ ও পেট্রোল বাবদ খরচ হয়েছে ২,১৪২ টাকা। শারীরিক ফিটনেস বজায় রাখতে বিভিন্ন জিম এবং বিনোদনমূলক অ্যাপের সাবস্ক্রিপশন বাবদ খরচ হয়েছে ১,৮০০ টাকা। সবশেষে, উইকএন্ডে দর্শনীয় স্থান ভ্রমণ ও অন্যান্য বহিরঙ্গন কার্যকলাপের জন্য তিনি খরচ করেছেন ২,প্তরের ২,৪৭০ টাকা। সব মিলিয়ে তাঁর জুলাই মাসের মোট খরচের পরিমাণ গিয়ে ঠেকেছে ৪৩,০৯৬ টাকায়।
ভিডিওটি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই তা নিয়ে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা এবং নেটিজেনদের কাছ থেকে এসেছে নানা ধরনের মিশ্র প্রতিক্রিয়া। ভিডিওর একেবারে শেষে চাহাত নিজেই দর্শকদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছিলেন যে, এই ধরনের উচ্চ খরচ নিয়ে তাঁর কি আদৌ চিন্তিত হওয়া উচিত, নাকি মেট্রোপলিটন শহরে এই বাজেট সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। এই প্রশ্নের উত্তরে অনেক নেটিজেনই মন্তব্য করেছেন যে, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে গুরুগ্রামের মতো একটি কস্টলি সিটিতে স্বাধীনভাবে একা জীবন কাটাতে গেলে এই পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা অত্যন্ত স্বাভাবিক বিষয়। এক সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী মত প্রকাশ করে লিখেছেন যে, সম্পূর্ণ একক আয়ের ওপর নির্ভর করে একা বসবাস করলে এই বাজেটকে অস্বাভাবিক বলা চলে না।
তবে এই মন্তব্যের বিপরীত মেরুতেও বহু মানুষ নিজেদের মতামত ব্যক্ত করেছেন। অনেকেই আবার মজার ছলে মন্তব্য করেছেন যে, এই ভিডিও দেখার পর দেশের তথ্যপ্রযুক্তির হাব বেঙ্গালুরুকেও অনেক বেশি সস্তা বলে মনে হচ্ছে। আবার কেউ কেউ পরামর্শ দিয়ে বলেছেন যে, এই বাজেটের মধ্যে যদি নিয়মিত পার্টি করা এবং অন্যান্য বিলাসবহুল শখের খরচ যুক্ত করা হয়, তবে তরুণ-তরুণীদের মাসিক খরচ আকাশচুম্বী হয়ে দাঁড়াবে। সব মিলিয়ে, এক যুবতীর ছোট্ট এই বাজেট রিপোর্ট আজ গোটা দেশের মধ্যবিত্ত জীবনযাত্রা ও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে এক বড়সড় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।