তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে কি তবে বড়সড় ভাঙন আসন্ন? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সৈনিকদের নিয়ে তৈরি হয়েছে প্রবল জল্পনা। সম্প্রতি লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে জমা দেওয়া একটি চিঠির প্রতিলিপি সংবাদমাধ্যমের হাতে আসতেই রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ওই তালিকায় দাবি করা হয়েছে, তৃণমূলের ১৯ জন সাংসদ এনডিএ-এর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার বা আলাদা রাজনৈতিক অবস্থান নেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন। আর সেই তালিকার দশম স্থানে রয়েছে খোদ ঘাটালের সাংসদ দেবের নাম!
কিছুদিন আগেই দেব প্রকাশ্য জনসভায় ঘোষণা করেছিলেন, “যতদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বেঁচে আছেন, আমি তাঁর সঙ্গেই আছি।” অথচ সেই মন্তব্যের কয়েকদিন যেতে না যেতেই সামনে আসা তালিকায় তাঁর স্বাক্ষর দেখে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা হতবাক। তালিকায় দেব ছাড়াও রয়েছেন সায়নী ঘোষ, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, শতাব্দী রায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদারের মতো হেভিওয়েট নেতারা। তবে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা এই তালিকার সত্যতা বা চিঠির আইনি বৈধতা স্বাধীনভাবে যাচাই করেনি। স্পিকারকে এই চিঠি সত্যিই পাঠানো হয়েছে কি না, তা নিয়েও রয়েছে ধোঁয়াশা।
সামনে আসা তালিকার বিন্যাস বেশ রহস্যময়। তালিকায় থাকা ১৯ জনের নামের ক্রমতালিকা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তালিকার একেবারে শীর্ষে আছেন বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। এরপর রয়েছেন শতাব্দী রায়, বাপি হালদার, শর্মিলা সরকারদের মতো সাংসদরা। তালিকার ১৩ নম্বর স্থানটি রহস্যজনকভাবে ফাঁকা রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, যাদবপুরের সাংসদ সায়নী ঘোষ এবং হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম মূল ক্রমতালিকায় না থাকলেও, আলাদা জায়গায় তাঁদের স্বাক্ষর পাওয়া গিয়েছে বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে।
তালিকায় থাকা উল্লেখযোগ্য সাংসদরা হলেন: প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, জগদীশ বর্মা বসুনিয়া, অসিত মাল, অরূপ চক্রবর্তী, কালীপদ সোরেন, জুন মালিয়া, পার্থ ভৌমিক, খলিলুর রহমান, আবু তাহের খান, ইউসুফ পাঠান, মিতালি বাগ এবং মালা রায়। এই বিপুল সংখ্যক সাংসদ যদি সত্যিই তৃণমূলের লাইন ছেড়ে এনডিএ-র দিকে ঝুঁকে থাকেন, তবে তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য এক ভয়াবহ বিপর্যয় হতে পারে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, লোকসভা নির্বাচনের পর তৃণমূলের এই সাংসদদের একাংশের এই ‘বিদ্রোহী’ অবস্থান রাজ্য রাজনীতিতে বড় কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত কি? নাকি এটি বিরোধীদের কোনো পরিকল্পিত অপপ্রচার? তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব এখনও পর্যন্ত এই তালিকা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিবৃতি দেয়নি। তবে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনা তুঙ্গে। তৃণমূলের ‘দুর্গ’ কি তবে ভাঙতে শুরু করেছে? না কি এর পেছনে অন্য কোনো সমীকরণ কাজ করছে, তা সময়ই বলবে।





