ইন্ডিয়া (INDIA) জোটের অন্দরে ক্রমশই স্পষ্ট হচ্ছে নতুন নেতৃত্বের সমীকরণ। একদিকে যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসকে নিয়ে নানাবিধ জল্পনা চলছে, ঠিক তখনই বিরোধী মঞ্চে নিজের অবস্থান আরও মজবুত করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে আয়োজিত ২৩টি বিরোধী দলের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে রাহুল গান্ধীর কণ্ঠেই শোনা গেল সুর, যা পরোক্ষভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য বড় চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ভোটচুরি নিয়ে রাহুলের ‘হান্ড্রেড পার্সেন্ট’ দাবি এদিন বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের ভোটচুরি ও ইভিএম বিতর্ক নিয়ে রাহুল গান্ধী কার্যত বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “মমতাদিদি ৯০ শতাংশ নিশ্চিত, অখিলেশ বা তেজস্বী হয়তো ৪০ শতাংশ নিশ্চিত— কিন্তু আমি ১০০ শতাংশ নিশ্চিত যে, পশ্চিমবঙ্গে ভোটচুরি হয়েছে।” ইভিএম-এর বদলে ব্যালট পেপারে ভোট করানোর যে দাবি উঠেছে, তার সপক্ষেই নিজের জোরালো যুক্তি তুলে ধরেছেন রাহুল।
জোটসঙ্গীদের কড়া বার্তা রাহুলের বৈঠকে জোটের ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে রাহুল গান্ধী সাফ জানিয়ে দেন, “কেউ যেন একে অপরকে টেনে নামানোর চেষ্টা না করে।” বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, জোটে থেকেও কিছু দল প্রকাশ্য মঞ্চে লাগাতার কংগ্রেসকে আক্রমণ করছে। তিনি ক্ষোভের সুরে বলেন, “নির্বাচনী কারচুপির মতো জাতীয় ইস্যুতে যখন কংগ্রেস রাস্তায় নেমে লড়াই করছে, তখন জোটের বড় শরিক দলের কাছ থেকে সেই স্তরের সমর্থন মিলছে না।” রাহুলের এই মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা— তবে কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিই ইঙ্গিত করলেন তিনি?
একতার ডাক খাড়গেরও বৈঠকে ডিলিমিটেশন বিল আটকাতে বিরোধী জোটের যে সাফল্য এসেছিল, তা মনে করিয়ে দিয়ে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেন, “১৬ এপ্রিল আমরা দেখিয়ে দিয়েছি ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের শক্তি। মোদী সরকারের জনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে এখন আমাদের এই সংহতিকে আরও অটুট রাখতে হবে।”
মমতা-সনিয়া রসায়ন বৈঠকে একদিকে যেমন রাজনৈতিক তিক্ততার ইঙ্গিত মিলছে, অন্যদিকে সৌজন্যের ছবিও ধরা পড়েছে ক্যামেরায়। কংগ্রেস নেত্রী সনিয়া গান্ধীর পাশেই বসেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দুজনকে গল্প করতে এবং আলিঙ্গন করতেও দেখা গিয়েছে। নিজের রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে এবং ইন্ডিয়া জোটে গুরুত্ব বজায় রাখতে মমতা যে কংগ্রেসের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন, তা আজকের বৈঠকের ছবিতে স্পষ্ট।
এখন প্রশ্ন একটাই, রাহুল গান্ধীর ‘কঠোর’ অবস্থান আর মমতার ‘নরম’ কূটনীতির এই দ্বন্দ্বে ইন্ডিয়া জোট শেষ পর্যন্ত কতটা অটুট থাকে, সেটাই দেখার বিষয়।





