কোলিয়ারিতে কাজের পরই মর্মান্তিক পরিণতি! সহকর্মীদের চোখের সামনেই হঠাৎ মৃত্যুর কোলে শ্রমিক?

ডিউটি শেষ করে বিশ্রাম নেওয়ার সময় আচমকাই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন এক কয়লা খনি শ্রমিক। শনিবার সকালে পশ্চিম বর্ধমানের অন্ডাল থানার অন্তর্গত ইসিএল (ECL)-এর বিশ্বেশ্বরী কোলিয়ারিতে এই আকস্মিক ও রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। মৃত শ্রমিকের নাম শিব কুমার (৩৮)।

ঠিক কী ঘটেছিল কোলিয়ারির ভিতরে?

এদিন অন্যান্য দিনের মতোই বিশ্বেশ্বরী কোলিয়ারিতে কাজে যোগ দিয়েছিলেন শিব কুমার। খনির ভিতর নিজের নির্ধারিত কাজ সফলভাবে শেষও করেছিলেন তিনি। এরপর সহকর্মীদের সঙ্গে এক জায়গায় বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন ওই শ্রমিক। ঠিক সেই মুহূর্তেই হঠাৎ অসুস্থবোধ করতে শুরু করেন তিনি।

সেখানে উপস্থিত অন্য কর্মীরা তক্ষুণি তাঁকে জল খাওয়ান এবং বাতাস করতে থাকেন। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন শিব কুমার। খনির বাকি শ্রমিকরা প্রথমে ঘাবড়ে গেলেও দ্রুত সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে তাঁকে খনির ভিতর থেকে বাইরে বের করেন এবং বিশ্বেশ্বরী প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

সহকর্মীদের চোখে বিভীষিকাময় মুহূর্ত

এই মর্মান্তিক ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এক সহকর্মী রাম চরণ ধোবি জানান, “আমি ভিতরে ছিলাম, আমাকে বাইরে ডেকে পাঠানো হয়। বেরিয়ে এসে দেখি শিব কুমার মাটিতে পড়ে আছেন। সহকর্মীরা বললেন, বসা অবস্থাতেই হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে উনি পড়ে গিয়েছেন।”

আরেক সহকর্মী রাজ কুমার বেয়াসপি ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেন, “আমরা সবাই মিলে বসেছিলাম। হঠাৎ দেখি বসা থেকে ও শুয়ে পড়ল। আমরা চারজন মিলে ধরে তুলতে গিয়ে দেখি ওর পুরো শরীর একেবারে এলিয়ে গেছে। সেই সময় গোঙাচ্ছিলেন শিব কুমার। উঠিয়ে বসানোর পর দু’বার তাঁর খিঁচুনির মতো ওঠে, আর তারপরেই চিরতরে জ্ঞান হারায়।”

পরিবারের আর্থিক সাহায্য ও চাকরির দাবি

অবাঞ্ছিত এই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে এবং মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে।

এদিকে, কর্মরত অবস্থায় এমন আকস্মিক মৃত্যুর জেরে ইসিএল কোলিয়ারির অন্যান্য শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহকর্মীরা অবিলম্বে মৃত শিব কুমারের পরিবারকে যথাযথ আর্থিক ক্ষতিপূরণ এবং পরিবারের যোগ্য এক সদস্যকে চাকরির দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, ইসিএল সূত্রে জানানো হয়েছে যে, কোম্পানির নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী মৃত কর্মীর পরিবারকে সমস্ত প্রাপ্য আর্থিক সাহায্য এবং নিয়মমাফিক পরিবারের একজনকে চাকরির সুযোগ দেওয়া হবে।