‘মমতা ডাকতেন না, আমি ডেকেছি!’ তৃণমূল বিধায়কদের অনুপস্থিতিতে ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের পর থেকেই ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’-এর নীতিকে পাথেয় করে রাজ্য পরিচালনার বার্তা দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভার অন্দরে দাঁড়িয়ে তিনি আগেই স্পষ্ট করেছিলেন যে, বিগত সরকার বিরোধী দলনেতাকে কণ্ঠরোধ করলেও, বিজেপি সরকার বিরোধীদের মতামতের গুরুত্ব দেবে। রাজ্যের সামগ্রিক উন্নয়নের স্বার্থে তিনি রাজনৈতিক বিভাজন মুছে একযোগে কাজ করতে আগ্রহী। সেই লক্ষ্যেই বৃহস্পতিবার দুর্গাপুরের সৃজনী হলে আয়োজিত প্রশাসনিক বৈঠকে রাজ্যের পাঁচ জেলার তৃণমূল বিধায়কদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু, সেই বৈঠকে শাসকদলের বিধায়কদের অনুপস্থিতি নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া এবং বীরভূম জেলাকে নিয়ে আয়োজিত ওই গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠকে সাতজন তৃণমূল বিধায়ককে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। কিন্তু বৈঠকের টেবিলে একজন বিধায়কও উপস্থিত ছিলেন না। এই ঘটনায় স্বভাবতই উষ্মা প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, “সাতজন তৃণমূল বিধায়ককে আমরা ডেকেছিলাম। মুরারইয়ের বিধায়ক আমাকে মেসেজ করে জানিয়েছিলেন তিনি আসবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কেউ আসেননি।”
এই অনুপস্থিতির প্রেক্ষিতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করে তাঁকে তীব্র কটাক্ষ করেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “আগে পাঁচ বছর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের (বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন) ডাকতেন না। অথচ বর্তমান বিজেপির সরকার বিরোধীদের ডেকেছে।” মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলে ফের চর্চা শুরু হয়েছে যে, তৃণমূল কি উন্নয়নের প্রশ্নে কেবলই নেতিবাচক রাজনীতি করছে? নাকি বিরোধী দলের সঙ্গে এক টেবিলে বসতে তৃণমূলের দলীয় নেতৃত্বই বাধা দিচ্ছে?
তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ অবশ্য এই বয়কটের দায়ভার সরাসরি দলের সিদ্ধান্তের ওপর চাপিয়েছেন। তাঁর কথায়, “এটা সম্পূর্ণ দলের সিদ্ধান্ত। আমাদের বিধায়কদের একটি অংশ বিধানসভায় ধরনা কর্মসূচিতে ছিলেন, অন্য অংশ দলীয় নির্দেশ মেনে নিজ নিজ এলাকায় কাজ করছিলেন।”
এদিকে, প্রশাসনিক বৈঠকের মঞ্চ থেকে রাজ্যের পুরভোট নিয়েও বড় ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “দুর্গাপুরের মানুষকে আশ্বস্ত করতে চাই, দুর্গাপুজো বা কালীপুজোর পর যে কোনও সময় নির্বাচনের বিষয়টি রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে জানিয়ে সাহায্য করবে সংশ্লিষ্ট দফতর।” পঞ্চায়েত ও পুরসভা অচল হয়ে থাকায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানান, পঞ্চায়েত অফিস কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা দলের অধিকারের বিষয় নয়। বিষয়টি নিয়ে পঞ্চায়েত সচিবকে কড়া নজরদারি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পরিশেষে, রাজ্যের শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের প্রসঙ্গ টেনে তৃণমূলকে চরম বিঁধেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার একসঙ্গে মিলে শিল্পে জোয়ার আনতে চায়। তবে আমরা হাততালি কুড়ানোর জন্য দেউচা পাচামির মতো ফ্রড কথাবার্তা বলি না, বলবও না।” মুখ্যমন্ত্রীর এই বিস্ফোরক মন্তব্য আগামী দিনে রাজ্য-রাজনীতিতে কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।