মমতার শিবিরে ফের বিরাট ভাঙন? কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বৈঠকে তৃণমূল সাংসদের উপস্থিতি ঘিরে তুঙ্গে রাজনৈতিক জল্পনা!

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরমহলে কি বড় কোনো রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটতে চলেছে? ক’দিন আগেই সদ্য তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার দাবি করেছিলেন যে, কালীঘাট শিবিরের আরও দুই সাংসদ তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। এই চাঞ্চল্যকর দাবির জল্পনা থিতিয়ে যাওয়ার আগেই, এবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে দেখা গেল কালীঘাট পন্থী তৃণমূল সাংসদ প্রতিমা মণ্ডলকে। আর এই একটিমাত্র ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলার রাজনৈতিক মহলে তীব্র গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

এদিন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে সাংসদ প্রতিমা মণ্ডল সাফাই দিয়ে জানান যে তিনি এই মুহূর্তে দিল্লিতেই উপস্থিত রয়েছেন এবং সেই কারণেই বৈঠকে যোগ দিয়েছেন। নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, ‘‘আমাকে একা নিয়ে এত প্রশ্ন কেন তোলা হচ্ছে? মানুষ আমাকে ভোট দিয়ে জিতিয়েছেন। আমি সাধারণ মানুষের কাজের জন্যই যাব এবং কোনোভাবেই জনগণের অবমূল্যায়ন করব না। এলাকার মানুষ যদি আমার কাছে প্রশ্ন করেন কেন তাঁরা সুপেয় জল পাচ্ছেন না, তবে তাদের সমস্যার কথা তুলে ধরা আমার নৈতিক দায়িত্ব। কেন আমাকে নিয়ে এত অপ্রয়োজনীয় আলোচনা হচ্ছে, তা আমার বোধগম্য নয়।’’

তিনি আরও পরিষ্কার করে জানান, পানীয় জলের সমস্যা সংক্রান্ত একটি জরুরি বৈঠকের জন্যই তিনি মন্ত্রীর দ্বারস্থ হয়েছিলেন। সুন্দরবনের সাংসদ হিসেবে নিজের এলাকার মানুষের পানীয় জলের কষ্ট দূর করা যে তাঁর প্রধান কর্তব্য, সে কথাও তিনি জোরালোভাবে উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, রাজ্যের একাধিক প্রান্তে তীব্র জলের সংকট রয়েছে এবং জনপ্রতিনিধি হিসেবে সেই দহনজ্বালা ও সমস্যার কথা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে তুলে ধরা তাঁর সাংবিধানিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।

এদিকে, রাজনীতির কারবারিরা মনে করছেন যে এই ঘটনার পেছনে গভীর রাজনৈতিক অর্থ লুকিয়ে রয়েছে। পূর্বে কাকলি ঘোষ দস্তিদার দাবি করেছিলেন যে, তাঁদের পুরনো দল থেকে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দেওয়া সহ নানা অনৈতিক ঘটনার কারণে অনেকেই তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। এমনকি তৃণমূলের অন্দর থেকে দু’জন সাংসদ তাদের সংস্পর্শে রয়েছেন বলেও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। লোকসভায় তৃণমূলের বর্তমান সাংসদ সংখ্যা ২৮ হলেও, এর আগে ২০ জন সাংসদ এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়ায় কালীঘাট শিবিরের আসন সংখ্যা কমে ৮টিতে এসে ঠেকেছিল। এমতাবস্থায় আরও কোনো সাংসদ দল ছাড়লে তা যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের জন্য এক বিশাল ধাক্কা হবে, তা বলাই বাহুল্য।