একসময় যে নবাবের শহর হাজারদুয়ারি, মতিঝিল আর সুস্বাদু আমের জন্য বিশ্বখ্যাত ছিল, আজ সেই মুর্শিদাবাদের আকাশে অশান্তির কালো মেঘ। ইতিহাস যেখানে প্রতি পদক্ষেপে কথা বলে, সেই ভূখণ্ড আজ কর্মসংস্থানহীনতা আর সাম্প্রদায়িক উস্কানির শিকার। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে মুর্শিদাবাদের রাজনীতির হাওয়া কোন দিকে বইছে, তা নিয়ে ডেইলিহান্ট-এর বিশেষ প্রতিবেদন।
সিএএ (CAA) থেকে শুরু করে ওয়াকফ বিল—একাধিক ইস্যুতে বারবার উত্তপ্ত হয়েছে এই জেলা। সাম্প্রতিক সময়ে শামশেরগঞ্জের সংঘর্ষ এবং এসআইআর (SIR) নিয়ে অশান্তি সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক তৈরি করেছে। এর মধ্যেই ‘বাবরি মসজিদ’ কার্ড খেলে সংখ্যালঘু ভোট পকেটে পুরতে চাইছেন নির্দল প্রার্থী হুমায়ুন কবীর। অন্যদিকে, বিজেপিও পিছিয়ে নেই; তারা পাল্টা ডাক দিয়েছে ‘রাম মন্দির’ গড়ার। মন্দির-মসজিদের এই চড়া দাগের রাজনীতির ভিড়ে চাপা পড়ে যাচ্ছে শিক্ষা আর উন্নয়নের দাবি।
জেলার চিত্রটা আজ আক্ষরিক অর্থেই করুণ। কর্মসংস্থানের অভাবে পুরুষরা দলে দলে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে ভিন রাজ্যে পাড়ি দিচ্ছেন। সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা শিক্ষার। জলঙ্গি মহাবিদ্যালয়ের ৯১ শতাংশ আসন খালি পড়ে আছে; ২১৮৯টি আসনের মধ্যে ভর্তি হয়েছে মাত্র ১৮৩ জন। ছাত্রীদের বক্তব্য, পড়াশোনা শেষ করে চাকরির কোনো নিশ্চয়তা নেই বলেই তারা উচ্চশিক্ষা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। পর্যটন শিল্পও আজ মুখ থুবড়ে পড়েছে; আতঙ্কে পর্যটকরা আর এই ঐতিহাসিক শহরে আসতে চাইছেন না।
রাজনৈতিক সমীকরণে দেখা যাচ্ছে, গত লোকসভা নির্বাচনে অধীর চৌধুরী হারলেও এবার তিনি অসাম্প্রদায়িক স্লোগান নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন। তবে ২০২১-এর ফলাফলে ২২টির মধ্যে ২০টি আসন দখল করে তৃণমূল এখনও শক্ত অবস্থানে। ২০২৪-এর হিসেবে বিজেপি ও কংগ্রেস কিছুটা অক্সিজেন পেলেও, বাম-কংগ্রেস জোট না থাকায় ভোট ভাগাভাগির সুবিধা কে পায়, সেটাই এখন দেখার।





