“পকেটে ভাঁজ করে নিয়ে গিয়েছিলেন মোদী!” ব্যারাকপুরের সভা থেকে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দাবি মমতার।

২০২৬-এর মেগা নির্বাচনের মুখে মেজাজ হারালেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার ব্যারাকপুরের এক জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে তাঁর করা একটি মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

“মোদীকে পকেটে ভাঁজ করে নিয়ে গিয়েছিলেন”

ব্যারাকপুরের মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, দিল্লিতে এক বৈঠকের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁকে রীতিমতো উপেক্ষা করার চেষ্টা করেছিলেন। তৃণমূল নেত্রীর কথায়, “মোদীজি ভেবেছিলেন আমায় পকেটে ভাঁজ করে নিয়ে যাবেন! কিন্তু তিনি জানেন না আমি বাংলার মেয়ে, ভয় পাওয়া আমার রক্তে নেই।” মূলত কেন্দ্রীয় বঞ্চনা এবং ১০০ দিনের কাজের টাকা আটকে রাখা নিয়ে বলতে গিয়েই প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন তিনি।

নিশানায় শুভেন্দু ও নন্দীগ্রামের স্মৃতি

এদিন আক্রমণ থেকে বাদ যাননি শুভেন্দু অধিকারীও। নন্দীগ্রামের সেই বিতর্কিত হারের প্রসঙ্গ তুলে শুভেন্দুকে ফের একবার ‘গদ্দার’ বলে সম্বোধন করেন মমতা। তিনি বলেন:

  • “নন্দীগ্রামে লোডশেডিং করে যে জিতেছিল, তার হিসাব মানুষ ২০২৬-এ নেবে।”

  • শুভেন্দু অধিকারীর নাম না করে তাঁকে হুঁশিয়ারি দিয়ে মমতা বলেন, “ব্যারাকপুর থেকে বলছি, যারা বেইমানি করেছে তাঁদের বাংলার মানুষ ক্ষমা করবে না।”

নির্বাচনী উত্তাপ তুঙ্গে

ব্যারাকপুর চিরকালই বাংলার রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ স্নায়ুকেন্দ্র। সেখান থেকেই একযোগে প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলনেতাকে আক্রমণ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দিলেন যে, ২০২৬-এর লড়াইয়ে তিনি বিন্দুমাত্র জমি ছাড়তে রাজি নন। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘বঞ্চনা’ এবং ‘ব্যক্তিগত মর্যাদা’—এই দুই ইস্যুকে হাতিয়ার করেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাধারণ মানুষের সেন্টিমেন্টকে উস্কে দিতে চাইছেন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy