২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে উত্তর ২৪ পরগনার মতুয়া ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখতে মরিয়া সব পক্ষই। ঠিক এই আবহেই হরিচাঁদ-গুরুচাঁদ বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্তিত্ব নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন বিজেপি নেতা স্বপন দাশগুপ্ত। তাঁর দাবি, ফলাও করে প্রচার করা হলেও আদতে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো পরিকাঠামোই তৈরি হয়নি।
‘বিশ্ববিদ্যালয় কোথায়?’— প্রশ্ন স্বপনের
বিজেপি নেতা স্বপন দাশগুপ্তের অভিযোগ, মতুয়া ধর্মগুরুদের নামে বিশ্ববিদ্যালয় তৈরির কথা বলে মুখ্যমন্ত্রী দীর্ঘ সময় ধরে মতুয়াদের বিভ্রান্ত করছেন। তাঁর কথায়:
“আমরা বিশ্ববিদ্যালয় খুঁজতে গিয়ে দেখলাম মাঠ খাঁ খাঁ করছে। এখনও পর্যন্ত একটা পিলারও ওঠেনি।”
“ভোটের আগে বড় বড় হোর্ডিং দেওয়া হলেও বাস্তবে ইঁট-বালি-সিমেন্টের কোনো দেখা নেই।”
প্রশাসনিক কোনো কাজ বা সঠিক পরিকাঠামো ছাড়াই কীভাবে সেখানে পঠনপাঠনের কথা বলা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
মতুয়া আবেগ বনাম পরিকাঠামো
মতুয়া সম্প্রদায়ের কাছে হরিচাঁদ ও গুরুচাঁদ ঠাকুর পরম শ্রদ্ধেয়। তাঁদের নামে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মতুয়াদের মন জয় করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু স্বপন দাশগুপ্তের এই অভিযোগ যদি সত্যি হয়, তবে তা তৃণমূলের জন্য বড় অস্বস্তির কারণ হতে পারে। স্বপনবাবুর মতে, এটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘বড় মাপের মিথ্যাচার’ ছাড়া আর কিছুই নয়।
সরকারের পাল্টা যুক্তি
যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ ইতিপূর্বেই শুরু হয়েছে এবং নির্দিষ্ট অস্থায়ী ঠিকানায় ক্লাসও চলছে। ভবন তৈরির কাজ প্রশাসনিক জটিলতায় কিছুটা থমকে থাকলেও তা দ্রুত শেষ করার চেষ্টা চলছে। বিরোধীরা উন্নয়নের পথে বাধা সৃষ্টি করতেই এই ধরণের ‘মিথ্যা প্রচার’ চালাচ্ছে বলে ঘাসফুল শিবিরের দাবি।





