মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের বাজারেও ভারতের জিডিপি রেকর্ড ৭.৮%! হঠাৎ বিদেশ ভ্রমণ ও সোনা নিয়ে কিসের সতর্কবার্তা মোদির?

ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পশ্চিম এশিয়া। বিশ্ব বাজারে ধারাবাহিকভাবে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে অপরিশোধিত তেলের দাম, আর তার ওপর গোদের ওপর বিষফোঁড়ার মতো যুক্ত হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর শুল্কনীতি। বিশ্বজুড়ে এমন এক অর্থনৈতিক টালমাটাল ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেও চলতি অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে ভারতের আর্থিক বৃদ্ধির হার বা জিডিপি (GDP) দাঁড়িয়েছে অবাক করার মতো ৭.৮ শতাংশে। বাজারের যাবতীয় পূর্বাভাস ও প্রত্যাশাকে ভুল প্রমাণ করে ভারতের এই দুর্দান্ত অর্থনৈতিক পারফরম্যান্স সামনে আসার পরই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ইনস্টাগ্রামে একটি বিশেষ বার্তার মাধ্যমে দেশবাসীর উদ্দেশে এই সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরেছেন তিনি এবং একই সঙ্গে আত্মনির্ভর হওয়ার নতুন মন্ত্রে এগিয়ে যাওয়ার জোরদার আর্জি জানিয়েছেন।

ইনস্টাগ্রামের ওই বিশেষ বার্তায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্পষ্ট ভাষায় দেশবাসীকে মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে দেশকে সম্পূর্ণভাবে ‘স্বদেশী’ এবং ‘ভোকাল ফর লোকাল’ (Vocal for Local)-এর আদর্শকে সামনে রেখেই সামনের দিকে এগোতে হবে। তবেই দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক ভিত্তি আরও বেশি সুদৃঢ় ও নিরাপদ থাকবে। দেশের বাইরের এই অস্থির সময়ে অর্থনৈতিক সুরক্ষাকে সুনিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন। বর্তমান বিশ্ববাজারের গতিপ্রকৃতি এবং দেশের অর্থনীতির সার্বিক পরিস্থিতি বিচার করে তিনি আর্জি জানিয়েছেন যে, শুধুমাত্র বিলাসিতা বা বিনোদনের উদ্দেশ্যে বিদেশ ভ্রমণ করা থেকে এই মুহূর্তে বিরত থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে ‘ডেস্টিনেশন ওয়েডিং’ বা বিদেশে গিয়ে জাঁকজমকপূর্ণভাবে বিয়ের অনুষ্ঠান করার প্রবণতা এখন অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তবে এই ট্রেন্ডের তীব্র সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থাকে চাঙ্গা রাখতে এই অভ্যাস থেকেও দূরে থাকা উচিত। তিনি পরিষ্কার জানান যে, বিদেশে বিয়ের আসর না বসিয়ে নিজ দেশেই বিয়ের অনুষ্ঠান করা উচিত। শুধু তাই নয়, দেশের মধ্যবিত্ত ও সাধারণ নাগরিকদের সোনা কেনা নিয়েও বিশেষ সতর্কবার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। তাঁর স্পষ্ট কথা, একান্ত প্রয়োজন বা জরুরি পরিস্থিতি না থাকলে এখন অতিরিক্ত সোনা কেনা থেকে বিরত থাকা উচিত। প্রধানমন্ত্রী আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, আমরা যত বেশি দেশীয় পণ্য বা ‘স্বদেশী’ জিনিসের ব্যবহার এবং আত্মনির্ভরতার ওপর জোর দেব, তত দ্রুত আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব। ২০৪৭ সালে ভারতের স্বাধীনতার ১০০ বছর পূর্তি পূর্ণ হওয়ার আগেই দেশের তরুণ প্রজন্মের হাতে একটি সর্বাঙ্গীন ‘বিকশিত ভারত’ তুলে দেওয়ার সংকল্প ব্যক্ত করেছেন তিনি। পরিশেষে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক দিয়ে বলেন, কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে দেশের যুবসমাজের সমস্ত স্বপ্ন পূরণ করতে হবে এবং দেশের ১৪০ কোটি মানুষকে একযোগে ভারতকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেওয়ার ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করতে হবে।