পেট্রোল ও ডিজেলের আকাশছোঁয়া দাম থেকে সাধারণ মানুষকে রেহাই দিতে এবার যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে কেন্দ্র। দূষণ কমানোর পাশাপাশি জ্বালানি আমদানিতে বিদেশের ওপর নির্ভরতা কমাতে ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি বা ‘ফ্লেক্স ফুয়েল’-এর ওপর জোর দিচ্ছে মোদী সরকার। বর্তমানে পেট্রোল পাম্পে ‘ই২০’ (E20) জ্বালানি মিললেও, খুব শীঘ্রই আসতে চলেছে ই৮৫ (E85) ভ্যারিয়েন্ট। সহজ ভাষায় বলতে গেলে, এবার আখের রস বা ভুট্টা থেকে তৈরি ইথানল অর্থাৎ এক প্রকার ‘মদ’-এই দাপিয়ে বেড়াবে গাড়ি।
ই২০ থেকে ই৮৫: বিশাল লাফ চলতি বছরের ১ এপ্রিল থেকে দেশের সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ই২০ পেট্রোল (যাতে ২০ শতাংশ পর্যন্ত ইথানল থাকে) বিক্রি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কিন্তু সরকারের পরবর্তী লক্ষ্য আরও বড়। কেন্দ্র চাইছে এমন জ্বালানি আনতে যেখানে ইথানলের পরিমাণ হবে ৮৫ শতাংশ এবং পেট্রোল থাকবে মাত্র ১৫ শতাংশ। এর ফলে লিটার প্রতি তেলের দাম এক ধাক্কায় অনেকটা কমে আসবে।
কেন এই পরিকল্পনা?
সাশ্রয়: ইথানল ভারতে উৎপাদিত হয়, তাই পেট্রোলের তুলনায় এর দাম অনেক কম। এর ফলে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের খরচ কমবে।
পরিবেশ বান্ধব: ইথানল পোড়ালে কার্বন নিঃসরণ অনেক কম হয়, যা পরিবেশ দূষণ রুখতে সাহায্য করবে।
কৃষকদের লাভ: আখ, ভুট্টা বা পচা দানাশস্য থেকে ইথানল তৈরি হয়। ফলে দেশের কৃষকরা সরাসরি লাভবান হবেন।
গাড়িতে কি বদল আনতে হবে? সাধারণ ইঞ্জিনে উচ্চ মাত্রার ইথানল ব্যবহার করলে ইঞ্জিনের ক্ষতি হতে পারে। তাই গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলিকে ‘ফ্লেক্স ফুয়েল ইঞ্জিন’ তৈরির নির্দেশ দিয়েছে সরকার। টয়োটা থেকে টাটা মোটর্স— সব সংস্থাই এখন ই৮৫ উপযোগী গাড়ি তৈরিতে ব্যস্ত। খুব শীঘ্রই বাজারে এমন গাড়ি দেখা যাবে যা পেট্রোল এবং ইথানল— দুইয়েই সমান দক্ষতায় চলবে।
এক নজরে হাইলাইটস:
টার্গেট: জ্বালানি আমদানিতে বিল কমানো।
উপাদান: ৮৫% ইথানল ও ১৫% পেট্রোল।
বর্তমান অবস্থা: সারা দেশে ই২০ পেট্রোল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।





