মদন মিত্র কি তৃণমূলে ‘বেসুরো’? ঋতব্রত শিবিরে সাক্ষাতের পরেই জল্পনা তুঙ্গে

রথযাত্রার আগের দিন রাজ্যজুড়ে উৎসবের আমেজের পাশাপাশি রাজনীতির অন্দরমহলে বাড়ছে উত্তাপ। বৃহস্পতিবার ১৬ জুলাই রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি তুঙ্গে। কিন্তু ধর্মীয় উৎসবের রেশ ছাপিয়ে বুধবার রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতির মোড় হঠাৎ করেই ঘুরে গেল বেশ কয়েকটি ঘটনায়। তৃণমূলের অন্দরে ক্রমবর্ধমান টানাপোড়েন এবং কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রের গতিবিধি ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে।
সূত্রের খবর, ইডির নোটিসের আবহে মঙ্গলবার রাতে তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতা মদন মিত্র ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ নেতা স্বর্ণকমল সাহার বাড়িতে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেছেন। রাত সাড়ে দশটা পর্যন্ত সেখানে তাঁর উপস্থিতি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে প্রবল কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। মদন মিত্র কি তবে ঋতব্রত শিবিরের দিকে পা বাড়াচ্ছেন? এই প্রশ্ন এখন রাজ্য রাজনীতির অলিন্দে ঘুরপাক খাচ্ছে।
এরই মধ্যে বুধবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘জনতার দরবার’-এ হাজির হয়েছিলেন বহু প্রতীক্ষিত কামদুনির নির্যাতিতার পরিবার। মৌসুমী কয়াল ও টুম্পা কয়ালসহ নির্যাতিতার পরিবারের সদস্যরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সিআইডি তদন্ত ও মামলার দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন। বারুইপুরে নতুন পুলিশ ফাঁড়ি উদ্বোধনের সময় থেকেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কামদুনি কাণ্ড নিয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, কামদুনির পরিবারকে রাজ্যের পক্ষ থেকে সবরকম আইনি সহায়তা করা হবে। আগের সরকারের আমলে এই মামলা নিয়ে যে গাফিলতি হয়েছে, তা নিয়ে রাজ্যের বর্তমান সরকারের অবস্থান যথেষ্টই আক্রমণাত্মক।
অন্যদিকে, দুর্নীতির অভিযোগে রাজ্যে গ্রেফতারি এবং আইনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সবমিলিয়ে রথযাত্রার ঠিক আগে বাংলার রাজনীতিতে ঘটনাক্রম এত দ্রুত পাল্টাচ্ছে যে প্রতি মুহূর্তেই নতুন নতুন সমীকরণ সামনে আসছে। একদিকে রথের রশিতে টান দেওয়ার প্রস্তুতি, অন্যদিকে রাজনীতির দাবার বোর্ডে শাসকদল ও বিরোধীদের মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধের লড়াই—সব মিলিয়ে বুধবারের বাংলা এক অভূতপূর্ব উত্তেজনার সাক্ষী রইল।