একদিকে গ্রামজুড়ে ডায়রিয়ার ভয়াবহ মড়ক, অন্যদিকে ১৬ বছরের এক স্কুলছাত্রীর অকালমৃত্যুর শোক— এই দুইয়ের সাঁড়াশি চাপে বিধ্বস্ত পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রামের কাটুন্দী ডাঙ্গা গ্রাম। কিন্তু প্রতিকূলতা যেখানে পাহাড়প্রমাণ, সেখানেই জয়ী হল গণতন্ত্র। বুধবার সকাল থেকে সেই গ্রামেরই এক অনন্য ছবি ধরা পড়ল ডেইলিহান্ট-এর ক্যামেরায়। শারীরিক যন্ত্রণাকে উপেক্ষা করে, কার্যত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভোটকেন্দ্রে হাজির হলেন অসুস্থ গ্রামবাসীরা।
স্থানীয় সূত্রে খবর, সম্প্রতি গ্রাম দেবীর পুজোর প্রসাদ খাওয়ার পর গ্রামজুড়ে ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দেয়। আক্রান্ত হন ২০০-র বেশি মানুষ। পরিস্থিতির ভয়াবহতা এমনই যে, বহু মানুষ এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অথবা বাড়িতে শয্যাশায়ী। এই রোগেই মৃত্যু হয়েছে গ্রামের এক ছাত্রীর। কিন্তু বুধবার সকালে দেখা গেল ভিন্ন দৃশ্য। কেউ পরিবারের কাঁধে ভর দিয়ে, কেউ টলমল পায়ে হেঁটে, আবার কেউ হাসপাতালের স্যালাইন খুলে সোজা পৌঁছে গিয়েছেন ভোটকেন্দ্রে।
বুথের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা প্রদীপ্ত মণ্ডল নামের এক আক্রান্ত বাসিন্দা বলেন, “শরীর ভীষণ দুর্বল, মাথা ঘুরছে। কিন্তু ভোট না দিয়ে শান্তি পাচ্ছিলাম না। এই অধিকারটুকুই তো আমাদের বড় অস্ত্র।” গ্রামবাসী ও ভোটকর্মীরা জানাচ্ছেন, গ্রামের মেয়েকে হারানোর শোক আর মহামারীর আতঙ্কের মাঝেও মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এক নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত। যদিও গ্রামবাসীদের অভিযোগ, এই সঙ্কটের সময়েও অসুস্থদের ভোটকেন্দ্রে নিয়ে আসার জন্য প্রশাসনের তরফে বিশেষ কোনও পরিবহণ বা মেডিকেল ক্যাম্পের ব্যবস্থা পর্যাপ্ত ছিল না। চরম বিপর্যয়ের মাঝেও কেতুগ্রামের এই বুথগুলি বুঝিয়ে দিল, ব্যালট বা ইভিএম-এর লড়াই মানুষের কাছে আজও কতটা গুরুত্বপূর্ণ।





