ঘড়ির কাঁটা যত এগোচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা তত তীব্র হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া ‘ডেডলাইন’ শেষ হওয়ার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে এক নজিরবিহীন ও দুঃসাহসিক রণকৌশল নিল ইরান। ট্রাম্পের সম্ভাব্য মিসাইল হামলা রুখতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎকেন্দ্র ও স্থাপত্যগুলোর চারপাশে ‘মানব শৃঙ্খল’ গড়ে তোলার ডাক দিয়েছে তেহরান।
ভোর ৩টে ৩০-এ চরম মুহূর্ত!
হিসাব অনুযায়ী, বুধবার স্থানীয় সময় ভোর ৩টে ৩০ মিনিটে শেষ হচ্ছে ট্রাম্পের দেওয়া আল্টিমেটাম। এই সময়ের মধ্যে ইরানকে হয় আমেরিকার শর্তে রাজি হতে হবে, নয়তো জ্বালানি সরবরাহের প্রধান পথ হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) খুলে দিতে হবে। কিন্তু তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা মাথা নত করবে না। ফলে ট্রাম্পের হুঙ্কার— “এক রাতের মধ্যেই দেশ ধ্বংস করে দেব”, এখন বাস্তব হওয়ার অপেক্ষায়।
ঢাল হিসেবে সাধারণ মানুষ? তেহরানের পাল্টা চাল
ইরানের ক্রীড়া ও যুব মন্ত্রক ছাত্র, অ্যাথলিট এবং শিল্পীদের আহ্বান জানিয়েছে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সামনে দাঁড়িয়ে পড়তে। ইরানের প্রতিমন্ত্রী আলিরেজা রাহিমি বলেন:
“আমরা হাতে হাত রেখে দাঁড়াব। আমেরিকার হামলা যদি অসামরিক পরিকাঠামোয় হয়, তবে বিশ্ব জানবে ট্রাম্প যুদ্ধ-অপরাধী।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি ইরানের একটি কূটনৈতিক কৌশল। বিদ্যুৎকেন্দ্রের চারপাশে সাধারণ মানুষের ভিড় থাকলে আমেরিকা সেখানে হামলা চালাতে দ্বিধাগ্রস্ত হবে। কারণ, বিপুল প্রাণহানি হলে তার দায় সরাসরি ট্রাম্পের ওপর বর্তাবে।
কেন এই সংঘাত? কেন হরমুজ প্রণালী?
জ্বালানি যুদ্ধ: বিশ্বের মোট তেলের এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে যায়। ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েলের হামলার পর ইরান এই পথ বন্ধ করে দেয়।
লক্ষ্যবস্তু: ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তাঁর টার্গেট ইরানের বড় বড় সেতু এবং বিদ্যুৎ কেন্দ্র।
ব্যর্থ আলোচনা: ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিলেও ইরান তা ফিরিয়ে দিয়েছে। তারা চায় স্থায়ী সমাধান।
সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখন ‘ডু অর ডাই’ পর্যায়ে। একদিকে ট্রাম্পের ধ্বংসাত্মক জেদ, অন্যদিকে ইরানের রক্তক্ষয়ী প্রতিরোধ। শেষ পর্যন্ত কি মানব শৃঙ্খল ট্রাম্পের যুদ্ধবিমানকে রুখতে পারবে? নাকি বুধবার ভোরেই আগুনের লেলিহান শিখা গ্রাস করবে ইরানকে? গোটা বিশ্ব এখন নিথর হয়ে সেদিকেই তাকিয়ে।





