ভোট-পরবর্তী হিংসার জের? পুকুরে মাছ ধরতে গিয়ে বোমার মুখে গ্রামবাসী, শোরগোল কাটোয়ায়

মাছ ধরতে জাল ফেলেছিলেন পুকুরে, কিন্তু জালে যা উঠে এল তা দেখে আঁতকে উঠলেন গ্রামবাসীরা! কাটোয়া ২ নম্বর ব্লকের বাকশা গ্রামে মাছ ধরতে গিয়ে জালে ধরা পড়ল তাজা সকেট বোমা। রোজকার মতো স্থানীয়রা পুকুরে জাল ফেলতেই জালে জড়ানো অবস্থায় বেরিয়ে এল বেশ কিছু ভারী লোহার বস্তু। জাল টেনে তুলতেই আতঙ্কে চিৎকার করে জাল ফেলে পালিয়ে যান মৎস্যজীবীরা। পুকুরের জলে এভাবে বোমা পাওয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, ভোট-পরবর্তী হিংসার জন্য এলাকায় এই বোমা ও আগ্নেয়াস্ত্র মজুত করা হয়েছিল। তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা এই ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত বলে স্থানীয়দের দাবি। বিজেপি নেতাদের অভিযোগ, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার পর ভয় থেকেই দুষ্কৃতীরা তড়িঘড়ি পুকুরের জলে বোমা ও অস্ত্র ফেলে দিয়ে পালিয়ে গেছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং পুকুরে আরও বোমা বা অস্ত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে ডাইভিং বা বিশেষ তল্লাশি অভিযানের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
অন্যদিকে, শনিবার রাজ্যের দুই প্রান্তে তৃণমূলের দুই দাপুটে নেতার গ্রেফতারি শাসকদলের অন্দরে অস্বস্তি বাড়াল। প্রথম ঘটনায়, পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতন-২ পঞ্চায়েত সমিতির কৃষি কর্মাধ্যক্ষ নন্দগোপাল সাউকে গাঁজা পাচারের অভিযোগে গ্রেফতার করেছে বেলদা থানার পুলিশ। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে শনিবার বিকেলে স্থানীয়রা তাঁকে আটক করে এবং বাইকের ডিকিতে তল্লাশি চালিয়ে গাঁজা উদ্ধার করে। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, এই নেতা এলাকায় তোলাবাজি ও জুলুমবাজির সঙ্গে যুক্ত।
একই রাতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় ২ পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ খয়রুল ইসলামকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিজয়গঞ্জ বাজারে এক খুনের ঘটনায় নাম জড়িয়েছিল তাঁর। বহরমপুর থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। রাজ্যে পালাবদলের আবহে একের পর এক তৃণমূল জনপ্রতিনিধির গ্রেফতারি নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। একদিকে পুকুরে বোমার মজুত, অন্যদিকে প্রকাশ্যে মাদক কারবারে তৃণমূল নেতাদের হাত থাকা—এই দুই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়রা এখন চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরব হয়েছে বিরোধীরা। পুলিশ জানিয়েছে, উভয় ঘটনারই কঠোর তদন্ত চলছে এবং ঘটনায় জড়িত কাউকেই রেয়াত করা হবে না।