বুধবার রাজ্যে দ্বিতীয় দফার ভোট। আর তার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে খোদ খাস কলকাতা তথা ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে ‘ভোট চুরির’ মারাত্মক অভিযোগ তুললেন বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, ছাপ্পা ভোট এবং রিগিং করার জন্য এবার এক অভিনব ও ‘নিম্নরুচির’ কৌশল নিয়েছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস।
কী এই ‘আঙুলের কভার’ বিতর্ক?
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় একটি সাংবাদিক সম্মেলনে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, ভবানীপুরে ভুয়ো ফিঙ্গারপ্রিন্ট ব্যবহার করে ভোট লুট করার পরিকল্পনা করেছে তৃণমূল। তাঁর অভিযোগ:
তৃণমূলের এক কাউন্সিলর নাকি ইতিমধ্যেই ৭৫০ পিস বিশেষ ধরনের আঙুলের গ্লাভস বা কভার অর্ডার দিয়েছেন।
পরিকল্পনা হলো, ওই কভার পরে বুথে গিয়ে ভোট দেবেন কর্মীরা। আঙুলে কালি দেওয়ার পর বুথ থেকে বেরিয়ে সেই কভারটি খুলে ফেলবেন তারা, যাতে পুনরায় অন্য নামে ভোট দেওয়া যায়।
এছাড়াও ৩,৮১০টি ভোটার স্লিপ নিয়ম বহির্ভূতভাবে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে তাঁর দাবি।
মমতাকে হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর
তৃণমূল নেত্রীকে সরাসরি নিশানা করে শুভেন্দু বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরাজয় এখন সময়ের অপেক্ষা মাত্র। ভুয়ো ফিঙ্গারপ্রিন্ট তৈরি করে ভোটচুরি হাতে-নাতে ধরা পড়ে গিয়েছে। বুধবার সকাল থেকে জনতাই আপনাদের কানমলা দেবে।” তিনি আরও জানান, এই বিষয়ে ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং এফআইআর করার আর্জি জানানো হয়েছে।
‘আগে ভোট, পরে প্রাতঃরাশ’
ভবানীপুরের ভোটারদের উদ্দেশে শুভেন্দু আবেদন জানান, বুধবার সকাল ৬টা থেকেই যেন সবাই লাইনে দাঁড়ান। তাঁর কথায়, পুলিশের একটি অংশ এখন নিরপেক্ষ এবং জনতাও জেগে গিয়েছে। তাই কোনো কারচুপি কাজে আসবে না। শুভেন্দুর হুঙ্কার— “শেষ ভোট না পড়া পর্যন্ত কাল আমি অপেক্ষা করব। তারপর তৃণমূলকে এই কভারের পিছনে কীভাবে দৌড় করাতে হয়, তা দেখাব।”
নজরে ভবানীপুর
বুধবার রাজ্যের ১৪২টি আসনের সঙ্গে ভোটগ্রহণ হবে ভবানীপুরেও। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অন্যদিকে শুভেন্দু অধিকারী— এই হাই-প্রোফাইল লড়াইয়ের ঠিক আগে ‘গ্লাভস রহস্য’ নিয়ে সরগরম রাজনৈতিক মহল। শুভেন্দুর এই অভিযোগের পর ওই এলাকার বুথগুলিতে কমিশন অতিরিক্ত কড়াকড়ি করে কি না, এখন সেটাই দেখার।





