আগামীকাল ৪ মে, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের সেই বহুল প্রতীক্ষিত দিন। ইভিএম (EVM) খোলার কয়েক ঘণ্টা আগেই কড়া নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হল গোটা রাজ্য। নিরাপত্তার খাতিরে এবার প্রতিবেশী দুই দেশের সঙ্গে থাকা আন্তর্জাতিক সীমান্তেও জারি করা হল কঠোর নিষেধাজ্ঞা। উত্তরবঙ্গের ভুটান সীমান্ত থেকে দক্ষিণবঙ্গের বাংলাদেশ সীমান্ত— সর্বত্রই এখন পুলিশ ও বিএসএফ-এর (BSF) কড়া পাহারা।
বন্ধ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ভোট গণনার সময় অপ্রীতিকর ঘটনা রুখতে এবং বহিরাগতদের প্রবেশ রুখতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে প্রশাসন। বাংলাদেশ ও ভুটানের সঙ্গে থাকা আন্তর্জাতিক সীমান্তগুলিতে বাণিজ্যিক যানবাহনের যাতায়াত সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আজ রাত থেকেই সীমান্তে পণ্যবাহী ট্রাক চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। গণনার কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই নির্দেশিকা বজায় থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
ছাড় পাবেন কারা? সীমান্তে কড়াকড়ি থাকলেও মানবিক দিক বিচার করে কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে:
শুধুমাত্র জরুরি পরিষেবার (যেমন অ্যাম্বুলেন্স বা চিকিৎসাজনিত কারণ) সঙ্গে যুক্ত যানবাহন চলাচল করতে পারবে।
বৈধ পাসপোর্ট ও নথিপত্র থাকা পর্যটকদের যাতায়াতে বাধা দেওয়া হবে না।
তবে সাধারণ পণ্যবাহী গাড়ি বা সন্দেহভাজন কোনো গতিবিধির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখা হচ্ছে।
নিরাপত্তায় বিএসএফ ও রাজ্য পুলিশ সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে নাকা তল্লাশি শুরু করেছে রাজ্য পুলিশ। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের জয়গাঁ (ভুটান সীমান্ত) এবং দক্ষিণবঙ্গের পেট্রাপোল, হিলি বা চ্যাংড়াবান্ধার মতো গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত চেকপোস্টগুলিতে সশস্ত্র জওয়ান মোতায়েন করা হয়েছে। গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী, গণনার দিন অশান্তি ছড়াতে সীমান্ত পার করে কোনো দুষ্কৃতী যাতে রাজ্যে প্রবেশ করতে না পারে, তার জন্যই এই ‘সিল’ করার সিদ্ধান্ত।
বাংলার মসনদে কে বসবে, তা নিয়ে যখন উত্তজনা তুঙ্গে, তখন সীমান্তের এই থমথমে পরিবেশ বুঝিয়ে দিচ্ছে কালকের লড়াই কতটা গুরুত্বপূর্ণ। ৪ মে গণনার শেষ না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সীমানায় এই ‘হাই অ্যালার্ট’ বজায় থাকবে।





