“ভোটে এবার রেকর্ড ২০ হাজার মহিলা জওয়ান”-ভোটের আগেই জেলা সফরে CEO মনোজ

বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের ঘণ্টা বেজে গিয়েছে। আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল রাজ্যে ভোটগ্রহণ। হাতে সময় খুব কম, আর তাই শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে এবার ময়দানে নামছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক (CEO) মনোজকুমার অগরওয়াল। নির্বাচনকে অবাধ, নিরপেক্ষ এবং শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে তিনি রাজ্যের প্রতিটি জেলায় ঝটিকা সফর করবেন বলে জানিয়ে দিয়েছেন।

লক্ষ্য গ্রাসরুট লেভেল: আধিকারিকদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক

মনোজ অগরওয়াল জানিয়েছেন, এই সফরের মূল উদ্দেশ্য হলো তৃণমূল স্তরের প্রস্তুতি যাচাই করা।

  • কাদের সঙ্গে বৈঠক? জেলার পুলিশ সুপার (SP), থানার ওসি (OC) এবং বিডিও-দের (BDO) সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন তিনি।

  • কী যাচাই হবে? ভোটের পরিকাঠামো, ভোটকর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় কোনও ঘাটতি আছে কি না, তা খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • সমন্বয়: নির্বাচন কমিশন ও জেলা প্রশাসনের মধ্যে কাজের তালমিল আরও মজবুত করাই এই জেলা সফরের প্রধান লক্ষ্য।

রাজ্যে সেনার পাহাড়: ইতিহাসের বৃহত্তম মহিলা বাহিনী

নিরাপত্তার প্রশ্নে এবার কোনও আপস করতে রাজি নয় কমিশন। পরিসংখ্যান বলছে, এবারের ভোটে রাজ্যে নিরাপত্তার ঘেরাটোপ গত সব নির্বাচনের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে:

  • মোট বাহিনী: রাজ্যজুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে ২,৪০০ কোম্পানির প্রায় ২,৪০,০০০ জওয়ান। এটি রাজ্যে মোতায়েন করা এখনও পর্যন্ত সর্বাধিক কেন্দ্রীয় বাহিনী, যা গত নির্বাচনের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।

  • রেকর্ড মহিলা বাহিনী: এই প্রথমবার নারী নিরাপত্তা ও মহিলা ভোটারদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে ২০,০০০ মহিলা আধাসামরিক জওয়ানের একটি বিশাল বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

কেন এত কড়াকড়ি?

নির্বাচন কমিশনের লক্ষ্য হলো ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে ভোট করানো। ভোট সন্ত্রাস রুখতে এবং সাধারণ ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে বুথমুখী হতে পারেন, তা নিশ্চিত করতেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে অতিরিক্ত বাহিনীর দাবি জানানো হয়েছিল। বিশেষ করে মহিলা ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মহিলা বাহিনীর ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।

আগামী কয়েকদিন মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের এই জেলা সফর এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর রুট মার্চ— এই দুইয়ের মিশেলে বাংলা এখন কার্যত দুর্ভেদ্য দুর্গে পরিণত হতে চলেছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy