ভোটের মুখে কমিশনের নজিরবিহীন পদক্ষেপ! একধাক্কায় ৮৪ জন BDO বদলি, কাঁপছে প্রশাসনিক মহল

২০২৬-এর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই নড়েচড়ে বসল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের লক্ষ্যে এবার প্রশাসনিক স্তরে বড়সড় রদবদল করা হল। রবিবার বিকেলে কমিশনের এক নির্দেশে রাজ্যের মোট ৮৪ জন বিডিও (BDO)-কে একযোগে বদলি করা হয়েছে। এই বিপুল সংখ্যক আধিকারিকের বদলির জেরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে নবান্ন থেকে শুরু করে জেলা প্রশাসন পর্যন্ত।

কেন এই গণ-বদলি? নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, কোনও আধিকারিক যদি দীর্ঘ সময় ধরে একই ব্লকে বা জেলায় কর্মরত থাকেন, তবে ভোটের আগে তাঁদের বদলি করা বাধ্যতামূলক। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। শুধু বিডিও নন, এই তালিকায় যুক্ত হয়েছেন বেশ কিছু এআরও (ARO)-ও। কমিশন চায় না যে, স্থানীয় প্রশাসনের কোনও প্রভাব নির্বাচনের নিরপেক্ষতাকে ক্ষুণ্ণ করুক।

প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক প্রভাব: একধাক্কায় ৮৪ জন ব্লক উন্নয়ন আধিকারিকের বদলি প্রশাসনিক স্তরে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই বদলি বিশেষ করে সেই সব ব্লকে করা হয়েছে যেখানে বিগত নির্বাচনগুলিতে গোলমালের অভিযোগ উঠেছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ শাসক ও বিরোধী—উভয় শিবিরের নির্বাচনী কৌশলে প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ বিডিও-রা সরাসরি বুথ স্তর এবং ভোট পরিচালনার দায়িত্বে থাকেন।

কমিশনের কড়া বার্তা: নির্বাচন কমিশনের এই নির্দেশ থেকে পরিষ্কার যে, ২০২৬-এর নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং প্রশাসনিক নিরপেক্ষতার প্রশ্নে তারা কোনও আপস করবে না। এর আগে এআই (AI) প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সিসিটিভি নজরদারি নিয়ে কড়া নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন। এবার প্রশাসনিক রদবদলের মাধ্যমে গ্রাউন্ড লেভেলে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও মজবুত করল দিল্লি। আগামী কয়েক দিনে পুলিশ ও প্রশাসনের আরও উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের বদলির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।