“ভোটের ময়দানে নামছে না CJP!”-অবশেষে বড় ঘোষণা অভিজিৎ দিপকের

একের পর এক চাঞ্চল্যকর আন্দোলন ও প্রতিবাদের জেরে শিরোনামে উঠে আসা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা CJP এখনই পুরোদস্তুর রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে না। সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে বুধবার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, এই মুহূর্তে সরাসরি ভোট রাজনীতিতে পা না রেখে তাঁদের এই সংগঠন একটি শক্তিশালী ‘প্রেশার গ্রুপ’ (Pressure Group) বা চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হিসেবেই কাজ চালিয়ে যাবে।
মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিজিৎ দিপকে বলেন, “এই মুহূর্তে CJP প্রেশার গ্রুপ হিসেবে কাজ করবে। ভারতের বর্তমান পরিস্থিতিতে এটাই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।” গত কিছুদিন ধরেই জল্পনা চলছিল যে, NEET প্রশ্নপত্র ফাঁস কান্ডের বিরুদ্ধে সফল আন্দোলন করার পর CJP কি তবে সরাসরি রাজনৈতিক দল হিসেবে ভোটের ময়দানে অবতীর্ণ হতে চলেছে? এদিনের এই বার্তার মাধ্যমে সেই সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটালেন দিপকে।
ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে কোর কমিটির বৈঠক
NEET প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ডে সফল আন্দোলনের পর CJP-র ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে তীব্র কৌতূহল তৈরি হয়েছিল ওয়াকিবহাল মহলে। সেই ভবিষ্যৎ রোডম্যাপ ঠিক করতেই এদিন মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে একটি গুরুত্বপূর্ণ কোর কমিটির বৈঠকে বসেছিলেন ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্ব। রাজনৈতিক মহলের একাংশের জোরালো অনুমান ছিল যে, এই বৈঠক থেকেই হয়তো রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করতে পারেন অভিজিৎ দিপকে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই পথে হাঁটেনি সংগঠন।
কেন রাজনৈতিক দল গঠন নয়? কারণ ব্যাখ্যা করলেন দিপকে
সাংবাদিক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত বদলের কারণ ব্যাখ্যা করে অভিজিৎ দিপকে জানান, দেশের যে সমস্ত যুবক-যুবতী এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ তাঁদের এই আন্দোলনে সর্বাত্মক সমর্থন জানিয়েছিলেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিকাঠামোর ওপর থেকে তাঁদের বতর্মান ভরসা উঠে গিয়েছে। সাধারণ মানুষের আস্থা হারিয়েছে প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলি, বিচারব্যবস্থা এমনকি নির্বাচন কমিশনও।
তাঁর অভিযোগ, সাধারণ মানুষ কোনো রাজনৈতিক দল বা নেতাকে বিশ্বাস করে সমর্থন জানালেও পরবর্তীতে দেখা যায় তাঁরা অন্য দলে ভিড়ে গিয়েছেন কিংবা দল ভাঙানোর খেলায় মেতেছেন। এই বাস্তব পরিস্থিতি মাথায় রেখেই দিপকে স্পষ্ট করেন যে, প্রচলিত অর্থে এই মুহূর্তে রাজনীতিতে নামার চেয়েও বৃহত্তর ও জোরালো সামাজিক আন্দোলনের ভীষণভাবে প্রয়োজন রয়েছে।
দেশজুড়ে জেন জি (Gen Z) সমর্থকদের সঙ্গে আলোচনা
জানা গিয়েছে, ভবিষ্যতে কোনো বড় ও চূড়ান্ত পদক্ষেপ করার আগে দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা নিজেদের ‘জেন জি’ (Gen Z) সমর্থকদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করবেন CJP নেতৃত্ব। উল্লেখ্য, একটি সাধারণ অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন বর্তমানে দেশের অন্যতম শক্তিশালী যুব কণ্ঠস্বরে পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিক অতীতে এত বড় মাপের ও সুসংগঠিত আন্দোলন গড়ে তোলার নজির খুব একটা দেখা যায়নি। আপাতত রাজনৈতিক মঞ্চে পা না দিয়ে সাংগঠনিক স্তরে সংস্কার, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি এবং যুবসমাজের মৌলিক অধিকার রক্ষার স্বার্থেই প্রেশার গ্রুপ হিসেবে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল CJP।
পাশাপাশি, সংগঠনের পক্ষ থেকে সৌরভ দাস জানিয়েছেন যে, বিশিষ্ট পরিবেশবিদ ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুককে মেন্টর বা পথপ্রদর্শক হিসেবে সম্পূর্ণ সম্মান জানিয়ে তাঁর কাছ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা নেবে ককরোচ বাহিনী।