বৈবাহিক ধর্ষণ কি ফৌজদারি অপরাধ? এক্তিয়ার নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে স্পষ্ট অবস্থান জানাল কেন্দ্র

বৈবাহিক ধর্ষণকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে কি না, সেই সংক্রান্ত নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার এক্তিয়ার আদালতের নেই, বরং এটি সম্পূর্ণভাবে আইনসভা তথা সংসদ এবং প্রশাসনের কাজ। বুধবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বিশেষ বেঞ্চে সাফ জানাল কেন্দ্রীয় সরকার। শীর্ষ আদালতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী তিন সপ্তাহ পর এই অত্যন্ত সংবেদনশীল মামলাগুলির চূড়ান্ত শুনানি শুরু হবে। এখন থেকে প্রতি সপ্তাহের বুধ ও বৃহস্পতিবার নিয়মিত এই মামলার শুনানি চলবে।
আইনি প্রেক্ষাপট ও বর্তমান পরিস্থিতি
সাবেক ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৫ ধারার ব্যতিক্রম ২-এ বলা হয়েছিল, স্ত্রীর বয়স ১৮ বছরের বেশি হলে তাঁর সঙ্গে স্বামীর জোরপূর্বক যৌন সম্পর্ক ধর্ষণ বলে গণ্য হবে না। বর্তমানে নতুন ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) ৬৩ ধারার ব্যতিক্রম ২-তেও অবিকল একই নিয়ম বহাল রয়েছে। এই আইনি রক্ষাকবচ বা ব্যতিক্রম বদল করার দাবিতে এবং বৈবাহিক ধর্ষণকে দণ্ডনীয় অপরাধের আওতায় আনার আরজি জানিয়ে একাধিক পক্ষ দীর্ঘদিন ধরে আদালতের দারস্থ হয়েছে।
কী জানাল সুপ্রিম কোর্ট?
মামলার শুনানির একপর্যায়ে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে জানান, বিবাহিত মানেই কোনো মহিলার ব্যক্তিগত স্বাধিকার কেড়ে নেওয়া যায় না। অনিচ্ছা সত্ত্বেও কোনো মহিলাকে যদি জোর করে যৌন সম্পর্কে বাধ্য করা হয়, তবে তিনিও যে একজন ভিক্টিম বা নির্যাতিতা, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে তাঁরা অবশ্যই এমন নারীদের পাশে দাঁড়াবে এবং সুরক্ষা দেবে। তবে মূল প্রশ্ন হলো, রাষ্ট্রীয় আইন একে সরাসরি ‘ধর্ষণ’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করবে কি না।
শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, এই মামলার বিচারে মূলত দুটি প্রধান বিষয় খতিয়ে দেখা হবে: ১. বৈবাহিক ধর্ষণ সংক্রান্ত বর্তমান আইনি ব্যতিক্রম বহাল থাকা সত্ত্বেও স্বামীর বিরুদ্ধে অন্য কোনো ফৌজদারি মামলা বা অভিযোগ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব কি না।
২. ভারতীয় ন্যায় সংহিতার এই বিতর্কিত ব্যতিক্রমী ধারাটি আদৌ সাংবিধানিক দিক থেকে বৈধ কি না।