প্রধান শিক্ষককে বেধড়ক পেটাল ছাত্ররা, জলপাইগুড়ি স্কুলে চরম উত্তেজনা, শুরু তদন্ত

জলপাইগুড়ি জিলা স্কুলে শিক্ষক দিবসের বিশেষ ভোজ ও মিড ডে মিলের আয়োজনকে কেন্দ্র করে ঘটা এক নজিরবিহীন সংঘর্ষে উত্তাল হয়ে উঠেছে শিক্ষা মহল। রান্নাঘরে পড়ুয়াদের উঁকিঝুঁকি দেওয়া নিয়ে শুরু হওয়া সামান্য বচসা হাতাহাতি ও মারামারিতে রূপ নেয়। অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক ধর্মুচাঁদ বারুই কয়েকজন ছাত্রকে মারধর করেন, যার জেরে ক্ষিপ্ত ছাত্ররা পাল্টা তাঁকে ঘিরে ধরে বেধড়ক পেটায়। মারের চোটে ওই প্রধান শিক্ষকের মাথা ফেটে যায় এবং বর্তমানে তিনি জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই ভয়াবহ ঘটনার পর থেকেই থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে স্কুল চত্বরে।

উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শকের তদন্ত শুরু ও মন্ত্রীর সফর

ঘটনার পরেই নড়েচড়ে বসেছে রাজ্য শিক্ষা দফতর। স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন এই গোটা ঘটনায় একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত রিপোর্ট তলব করেছেন এবং আগামী শুক্রবার তিনি নিজে জলপাইগুড়িতে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবেন বলে জানিয়েছেন। মন্ত্রীর নির্দিষ্ট নির্দেশের পরেই বুধবার দুপুরে তড়িঘড়ি জেলা স্কুলে গিয়ে তদন্ত শুরু করেন উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শক সুজিত সরকার। ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সুজিতবাবু জানান, সিসিটিভি ফুটেজ খুঁটিয়ে দেখে এই ঘটনার সঙ্গে যুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ও প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে তিনি হাসপাতালেও গিয়ে আহত প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলবেন।

শিক্ষক সংগঠনগুলির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড়

প্রধান শিক্ষকের ওপর শিক্ষার্থীদের এই হামলার ঘটনায় রাজ্যজুড়ে তীব্র প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। ঘটনার নিন্দা জানিয়ে প্রধান শিক্ষকদের সংগঠন ‘অ্যাডভান্স সোসাইটি ফর হেডমাস্টার্স অ্যান্ড হেডমিস্ট্রেসেস’-এর জলপাইগুড়ি জেলা সম্পাদিকা তথা প্রধান শিক্ষিকা প্রিয়াঙ্কা চক্রবর্তী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, প্রধান শিক্ষকের কোনো ত্রুটি থাকলে তার বিচার ও ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দিষ্ট আইনি পদ্ধতি রয়েছে, কিন্তু ছাত্ররা দলবেঁধে এহেন হামলে পড়তে পারে না। এই ঘটনার পর জেলার অন্যান্য বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক-শিক্ষিকারাও চরম আতঙ্কিত বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকদের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে জেলাশাসক, পুলিশ সুপার এবং জেলা উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শকের কাছে ইতিমধ্যেই স্মারকলিপি জমা দিয়েছে সংগঠনটি। পাশাপাশি দোষী ছাত্রদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবিতে এদিন সাহুডাঙ্গি পিকে রায় উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকারাও কালো ব্যাজ পরে প্রতীকী প্রতিবাদে সামিল হন।