ভোটের আগে হুঁশিয়ারি, ‘বিহার জয় করেছি, এবার বাকি ১২ রাজ্য!’ বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করে কেন কড়া বার্তা দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী?

ভোটার তালিকা ডিজিটাইজেশন সংক্রান্ত এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যেই বিরোধীদের কড়া আক্রমণ শানালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এসআইআর-এর বিরোধিতা করা বিরোধীদের আক্রমণ করে তিনি দাবি করেন, অনুপ্রবেশকারীদের সমর্থন করে এমন কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষেই দেশের মানুষ থাকেন না। এর প্রমাণ হিসেবে তিনি টেনে আনেন বিহার বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল।

শুক্রবার গুজরাটের ভুজে বিএসএফের এক অনুষ্ঠানে গিয়ে অমিত শাহ বলেন, “অনুপ্রবেশ বন্ধ করা কেবল দেশের নিরাপত্তার জন্যই প্রয়োজন নয়, বরং দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে দূষিত হওয়া থেকে রক্ষা করাও এর উদ্দেশ্য।” তাঁর দাবি, কিছু রাজনৈতিক দল সরকারের অনুপ্রবেশ বিরোধী অভিযানকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে।

মমতার চিঠি ও শাহের পাল্টা যুক্তি: কার হাতে থাকবে ক্ষমতার চাবি?
এই আবহে, বৃহস্পতিবার এসআইআর স্থগিতের দাবি জানিয়ে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি লিখেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ:

পরিকল্পনাহীনতা: এসআইআর প্রক্রিয়া পরিকল্পনাহীন ভাবে চালানো হচ্ছে এবং এটি বিপজ্জনক হয়ে উঠছে।

প্রশিক্ষণের অভাব: প্রক্রিয়াটিতে যথেষ্ট প্রশিক্ষণের অভাব রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় নথি সম্পর্কে অস্পষ্টতা রয়েছে।

কর্মীর চাপ: বিএলও-দের উপর অত্যাধিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে, যা তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক।

যদিও নির্বাচন কমিশন এখনও মমতার চিঠির জবাব দেয়নি। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আবারো এসআইআর-এর পক্ষে সওয়াল করে বিরোধীদের দিকে আঙুল তোলেন। তাঁর কথায়, “এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটার তালিকার শুদ্ধিকরণের যে কাজ করছে নির্বাচন কমিশন, সেটা বিঘ্নিত করার চেষ্টা করছে বিরোধীরা।”

বাংলা-কেরল-তামিলনাড়ুতে ভোটের আগে কড়া বার্তা
অমিত শাহ আরও জানান, বিহারের পর পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, কেরল, পুদুচেরি-সহ মোট ১২টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআর করার কাজ শুরু হয়েছে, যেখানে আগামী বছরই বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে। বিরোধীরা অভিযোগ করছে ভোটের আগে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই প্রক্রিয়া করা হচ্ছে।

কিন্তু শাহের কড়া জবাব, “কোনো রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, দেশের প্রধানমন্ত্রী কে হবেন, তা ঠিক করার দায়িত্ব একমাত্র দেশের নাগরিকদের, অনুপ্রবেশকারীদের নয়।” তিনি যেসব রাজনৈতিক দল এসআইআর-এর বিরোধিতা করছে, তাদের সতর্ক করে বলেন, “ওরা অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষা করতে চাইছে, কিন্তু সেটা কখনোই হবে না।”