ভোটের আগে রণক্ষেত্র দুর্গাপুর! বাসের অভাবে রাস্তায় শুয়ে বিক্ষোভ ভোটকর্মীদের, বিশৃঙ্খলা চরমে

রাত পোহালেই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের হাইভোল্টেজ দ্বিতীয় দফা। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণের আগে মঙ্গলবার সকাল থেকেই চূড়ান্ত তৎপরতা রাজ্যজুড়ে। ডিস্ট্রিবিউশন অ্যান্ড কালেকশন রিসিভিং সেন্টার (DCRC) থেকে ইভিএম (EVM) ও ভিভিপ্যাট (VVPAT) নিয়ে ভোটকেন্দ্রের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন কর্মীরা। তবে এই প্রস্তুতির মাঝেই একদিকে যেমন দুর্গাপুরে ছড়াল চরম উত্তেজনা, অন্যদিকে সুন্দরবনের নদীপথে দেখা গেল গণতন্ত্রের ভিন্ন লড়াই।
এদিন সকালে আসানসোল-দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চল থেকে ৪,৭৮১ জন ভোটকর্মীকে বিভিন্ন জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু দুর্গাপুরের সিটি সেন্টার বাস টার্মিনালে পর্যাপ্ত বাস না মেলায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন তাঁরা। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও যাতায়াতের ব্যবস্থা না হওয়ায় অনেক ভোটকর্মী রাস্তায় বসে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। তাঁদের অভিযোগ, হাজার হাজার কর্মীকে পাঠানোর মতো ন্যূনতম পরিবহণ ব্যবস্থা করেনি প্রশাসন। এক ক্ষুব্ধ কর্মী বলেন, “সকাল ৯টা বাজে, এখনও জানি না কীভাবে গন্তব্যে পৌঁছাব।” প্রবল উত্তেজনার পর অবশ্য বেশ কিছু বাসের ব্যবস্থা করা হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
অন্যদিকে, সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবন এলাকায়। সেখানে বাসের বদলে ভরসা নৌকা আর লঞ্চ। পাথরপ্রতিমার মতো দুর্গম এলাকায় নদী ও খাঁড়ি পেরিয়ে ইভিএম পৌঁছে দিতে মঙ্গলবার ভোর থেকেই ব্যস্ততা ছিল তুঙ্গে। এখানকার ৯টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা এমন জায়গায় অবস্থিত যেখানে পৌঁছনোর একমাত্র উপায় জলপথ। রামগঙ্গা বিডিও অফিস থেকে সেক্টর অফিসার ও পোলিং অফিসাররা সরঞ্জাম বুঝে নিয়ে জলপথে রওনা দিয়েছেন। জোয়ার-ভাটা আর প্রতিকূল আবহাওয়াকে টেক্কা দিয়ে বুথে বুথে পৌঁছচ্ছে গণতন্ত্রের সরঞ্জাম।
প্রশাসনের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, সুন্দরবনের প্রতিকূল পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে বাড়তি ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ভোটকর্মীদের অনেকে স্কুল ভবন বা অস্থায়ী ক্যাম্পে থাকছেন। সব মিলিয়ে একদিকে বিক্ষোভের আগুন আর অন্যদিকে দুর্গম অভিযানের জেদ—এই দুই ভিন্ন মেজাজেই শেষ দফার ভোটের আগের প্রস্তুতি সেরে ফেলল নির্বাচন কমিশন।