জন্ম, মৃত্যু, বিয়ে—এই তিন বিধাতার হাতে বলেই আমরা জানি। কিন্তু এবার সেই অমোঘ নিয়তির লিখন আগেভাগেই পড়ে ফেলার উপায় বের করে ফেললেন বিজ্ঞানীরা। মানুষটি আর কতক্ষণ আমাদের মাঝে থাকবেন, তার দিনক্ষণ এখন চিকিৎসকরা চোখের পলক দেখেই বলে দিতে পারবেন। দক্ষিণ কোরিয়ার গিয়োংসাং ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হসপিটালের ডিরেক্টর জাং হান কাংয়ের নেতৃত্বে একদল বিজ্ঞানী দাবি করেছেন, মৃত্যুর ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগে মানব শরীর বিশেষ কিছু সংকেত দেয়, যা চিনে নিতে পারলেই কেল্লাফতে।
BMJ Supportive and Palliative Care জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, কোনো দামী পরীক্ষা বা স্ক্যান নয়, বরং মানুষের ‘কর্নিয়াল রিফ্লেক্স’ (Corneal Reflex) পর্যবেক্ষণ করেই মৃত্যুর সময়কাল জানা সম্ভব। কর্নিয়াল রিফ্লেক্স হলো চোখের উপরিভাগ স্পর্শ করলে আপনাআপনি চোখের পাতা বন্ধ হওয়ার যে স্বাভাবিক ও স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়া। বিজ্ঞানীদের মতে, মৃত্যুর সময় যত এগিয়ে আসে, মানুষের মস্তিষ্ক এবং স্নায়ুতন্ত্র এই স্বাভাবিক রিফ্লেক্স বা প্রতিক্রিয়া করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।
গবেষণায় দেখা গেছে, ট্রাইজেমিনাল ও ফেসিয়াল নার্ভের কর্মক্ষমতা কমে গেলে চোখের পাতা পড়ার গতি কমে যায় অথবা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ১১২ জন ক্যানসার আক্রান্ত মরণাপন্ন রোগীর ওপর দীর্ঘ সাতদিন ধরে এই পরীক্ষা চালানো হয়েছিল। ফলাফল দেখে চমকে গিয়েছেন চিকিৎসকরাও। দেখা গিয়েছে, যে রোগীদের কর্নিয়াল রিফ্লেক্স ছিল না, তাঁদের মধ্যে ৭০.৭ শতাংশ রোগীই মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মারা গিয়েছেন। এমনকি ৯৫ শতাংশ ক্ষেত্রেই এই হিসেব মিলে গিয়েছে নিখুঁতভাবে।
ডঃ কাং জানিয়েছেন, মৃত্যুর ঠিক আগে মানুষের মস্তিষ্কের যে অংশটি শ্বাসপ্রশ্বাস ও চেতনা নিয়ন্ত্রণ করে, তা কাজ করা বন্ধ করে দেয়। ফলে চোখের প্রতিক্রিয়ায় এই পরিবর্তন দেখা দেয়। চিকিৎসকদের মতে, এই আবিষ্কার আগামী দিনে চিকিৎসাবিজ্ঞানে এক নতুন দিগন্ত খুলে দেবে। এর ফলে রোগীর পরিবার মানসিকভাবে প্রস্তুতি নেওয়ার সময় পাবেন এবং প্রিয়জনের শেষ সময়ে পাশে থাকার সুযোগ পাবেন। যদিও এখনই সাধারণ মানুষের ওপর এটি প্রয়োগ করার আগে আরও বড় পরিসরে গবেষণার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বিজ্ঞানীরা।





