ভোটের আগে বিরাট রাজনৈতিক মোড়! দলবদল করা সাংসদদের পর এবার শুভেন্দুর সঙ্গে বৈঠকে নব্য তৃণমূলের বিধায়কেরা

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চাঞ্চল্যকর মোড় এনে এবার নব্য তৃণমূলের প্রতিনিধিদল ও বিধায়কদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এর আগে গত ৫ অগাস্ট নয়াদিল্লিতে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে এনসিপিআই-তে (NCPI) যোগ দেওয়া বিদ্রোহী সাংসদেরা মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বিশেষ বৈঠক করেছিলেন। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই এবার নব্য তৃণমূলের প্রতিনিধিদের এই বৈঠক রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যজুড়ে ভোটার তালিকা সংশোধন এবং নিবিড় নাম যাচাই বা ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ার জেরে প্রায় ২৭ লক্ষ থেকে ৩২ লক্ষ ভোটারের নাম হয় তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, না হয় তা যাচাইয়ের জন্য ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়েছে। এই বিপুল সংখ্যক ভোটারের নথিপত্র পুনরায় পরীক্ষা ও যাচাইয়ের প্রশাসনিক জটিলতা এবং সাধারণ মানুষের চরম ভোগান্তির বিষয়টি তুলে ধরতেই মূলত এই বৈঠক হতে চলেছে। দূর-দূরান্ত থেকে সাধারণ নাগরিক ও প্রবীণ ব্যক্তিদের নাম তালিকায় বহাল রাখার তাগিদে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল ও সরকারি কার্যালয়ে ঘুরে বেড়াতে হচ্ছে, যার ফলে তাঁদের একদিকে যেমন শারীরিক কষ্ট পোহাতে হচ্ছে, তেমনই আর্থিক ক্ষতির মুখেও পড়তে হচ্ছে।

এই সমস্যা থেকে সাধারণ মানুষকে মুক্তি দিতে এবং প্রশাসনিক জটিলতা কমাতে নব্য তৃণমূলের পক্ষ থেকে বেশ কিছু জোরালো দাবি পেশ করা হচ্ছে। এর মধ্যে অন্যতম প্রধান দাবি হলো—প্রতিটি জেলা স্তরে আলাদা করে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল কোর্ট গঠন করা, যাতে স্থানীয় পর্যায় থেকেই দ্রুত সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হয়। পাশাপাশি, ভোটার তালিকার জটিল নিয়মকানুন এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সঠিক দিশা দেখাতে প্রতিটি জেলা কার্যালয়ে বিশেষ হেল্প ডেস্ক চালু করারও অনুরোধ জানানো হয়েছে। যাচাইকরণ প্রক্রিয়া যাতে দীর্ঘায়িত না হয় এবং প্রবীণ নাগরিক ও শিশুরা যাতে কষ্ট না পান, সে জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে এই প্রক্রিয়া শেষ করার পক্ষে সওয়াল করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই শাসক শিবির ও বিজেপিকে তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণ শানিয়ে আসছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়া লাইভে এসেও এই বিষয়ে আক্রমণ শানানো হয়েছে। যাদের নাম ভোটার তালিকায় ওঠেনি, তাদের হয়ে একমাত্র তারাই লড়াই চালাচ্ছেন—এই রাজনৈতিক দাবিকে সামনে রেখেই এবার কালীঘাট তৃণমূল নতুন করে প্রচারে নামার কৌশল তৈরি করছে। সবমিলিয়ে, ভোটার তালিকা ও ট্রাইব্যুনাল সংক্রান্ত এই জটিলতার আবহে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে নব্য তৃণমূলের এই আসন্ন বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।