বার্ধক্যের চরম পরিণতি! বৃদ্ধাশ্রমে নিঃসঙ্গ মৃত্যুর পর মোবাইল স্ক্রিনেই বাবার দাহকাজ দেখলেন কন্যারা, ভাইরাল মর্মান্তিক ঘটনা

পিতা-মাতার তিলে তিলে গড়ে তোলা সংসার এবং নিঃস্বার্থ ভালোবাসার বিনিময়ে বার্ধক্যে এসে চরম অবহেলার শিকার হওয়ার এক মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনা সামনে এসেছে হরিয়ানার সোনিপত থেকে। জীবনের শেষ দিনগুলোতে পরম যত্নে মানুষ করা তিন মেয়ের কেউই পাশে দাঁড়ালেন না ৭৪ বছর বয়সি এক বৃদ্ধ পিতার। উল্টে শেষকৃত্যে উপস্থিত না হয়ে ভিডিও কলে বাবার দাহকার্য দেখে এবং অনলাইনে টাকা পাঠিয়েই নিজেদের দায়িত্ব শেষ করলেন কন্যারা। এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি বর্তমানে দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং আধুনিক সমাজের পারিবারিক সম্পর্কের অবনতি নিয়ে নতুন করে গভীর প্রশ্ন তুলেছে।

সোনিপতের পশ্চিম রাম নগরের একটি বৃদ্ধাশ্রমে দীর্ঘকাল ধরে বসবাস করতেন শিবচরণ গুপ্ত নামের এক প্রাক্তন কাপড় ব্যবসায়ী। প্রথমে স্ত্রীর সঙ্গে সেখানে এলেও, স্ত্রীর প্রয়াণের পর থেকে তিনি পুরোপুরি একা হয়ে পড়েছিলেন। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তাঁর একমাত্র আকুতি ছিল শেষবারের মতো নিজের তিন মেয়ের মুখ দেখা। কিন্তু সেই অমোঘ ইচ্ছা পূরণ হওয়ার আগেই তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। বৃদ্ধাশ্রম কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, মৃত্যুর প্রায় কুড়ি দিন আগে থেকেই শিবচরণ বাবুর শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতির খবর তিন মেয়েকে একাধিকবার জানানো হয়েছিল। তা সত্ত্বেও ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে তাঁদের কেউ একবারের জন্যও অসুস্থ বাবার সঙ্গে দেখা করতে আসেননি।

শিবচরণ বাবুর কোনো পুত্রসন্তান ছিল না। তিনি নিজের তিন মেয়ে—অনিতা, নিশা এবং প্রিয়াকে অত্যন্ত স্নেহে ও কঠোর পরিশ্রম করে বড় করেছিলেন, উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করেছিলেন। এমনকি তাঁদের মধ্যে দু’জন কন্যাসন্তান আজ প্রতিষ্ঠিত শিক্ষিকা। অথচ বাবার মৃত্যুর দুঃসংবাদ পাওয়ার পরও তাঁরা কেউই সোনিপতে ছুটে আসার প্রয়োজন বোধ করেননি। বরং বৃদ্ধাশ্রম কর্তৃপক্ষ যোগাযোগ করলে সময়ের অভাবের কথা জানিয়ে তিন মেয়ে স্রেফ অনলাইনের মাধ্যমে ৫,১০০ টাকা পাঠিয়ে দেন এবং মোবাইল স্ক্রিনের ভিডিও কলের মাধ্যমেই বাবার শেষকৃত্য দেখে নিজেদের তথাকথিত কর্তব্য পালন করেন। শুধু তাই নয়, শেষকৃত্যের পর বৃদ্ধের অস্থি সংগ্রহ করতেও অস্বীকার করেন তাঁরা এবং স্থানীয়দের মাধ্যমেই তা গঙ্গায় বিসর্জন দেওয়ার অনুরোধ জানান।

মেয়েরা চরম উদাসীনতা দেখালেও মানবতার খাতিরে বৃদ্ধাশ্রমের কর্মী এবং স্থানীয় বাসিন্দারাই একসঙ্গে এগিয়ে আসেন এবং সমস্ত ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে শিবচরণ গুপ্তর শেষকৃত্যের সম্পূর্ণ ব্যবস্থা করেন। তবে মৃত্যুর আগে ওই বৃদ্ধ নিজের দু’টি চোখ দান করে যাওয়ার সদিচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। সেই মহৎ ইচ্ছা অনুযায়ী তাঁর মৃত্যুর পর চোখ দু’টি সফলভাবে দান করা হয়, যা কোনো অন্ধ মানুষের জীবনে নতুন আলো ফিরিয়ে দিতে পারে। অকৃতজ্ঞ সন্তানদের এমন অমানবিক আচরণ সমাজকে বাকরুদ্ধ করে দিয়েছে।