২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজার আগেই বড়সড় রদবদল হতে চলেছে লখনউয়ের রাজনৈতিক অলিন্দে। ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাক (I-PAC)-এর সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিন্ন করার পথে সমাজবাদী পার্টি। রাজনৈতিক মহলের খবর, অখিলেশ যাদবের নেতৃত্বাধীন সপা আর তাদের নির্বাচনী কৌশলের ভার আইপ্যাকের হাতে ছাড়তে চাইছে না। ২০২৫ সালে বড় আশা নিয়ে যে চুক্তি হয়েছিল, তা মেয়াদ ফুরানোর আগেই বাতিলের সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে সমাজবাদী শিবির।
কিন্তু কেন এই আকস্মিক মোহভঙ্গ? সূত্রের দাবি, এর নেপথ্যে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের অভাবনীয় ভরাডুবি। ২০২১ সালে যে আইপ্যাক তৃণমূলকে পাহাড়প্রমাণ সাফল্য এনে দিয়েছিল, ২০২৬-এ সেই জাদুর কাঠি কার্যত ব্যর্থ। বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল মাত্র ৮০টি আসনে থমকে যাওয়ায় এবং বিজেপি ২০০-র গণ্ডি পার করে ফেলতেই আশঙ্কায় ভুগছেন সমাজবাদী পার্টির শীর্ষ নেতারা। তাঁদের মতে, উত্তরপ্রদেশের মতো কঠিন পিচে যে কৌশল কাজ করবে না, তার ওপর নির্ভর করা বোকামি।
শুধু নির্বাচনী ব্যর্থতা নয়, আইপ্যাকের সঙ্গে জুড়ে থাকা একাধিক আইনি জটিলতাও সমাজবাদী পার্টিকে পিছু হটতে বাধ্য করছে। আইপ্যাক ডিরেক্টর ভিনেশ চন্ডেলের গ্রেফতারি এবং বাংলার গরু পাচার মামলায় প্রতীক জৈন-সহ সংস্থার অন্যান্য আধিকারিকদের ইডির তলব—এই সব ঘটনাই অখিলেশের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। সপা নেতৃত্বের একাংশ মনে করছেন, এমন একটি সংস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকলে নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় এজেন্সির ঝামেলার মুখে পড়তে হতে পারে দলকেও।
প্রসঙ্গত, বাংলায় ভোটের ঠিক আগেই আইপ্যাক কর্তা প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে ইডি হানা শোরগোল ফেলে দিয়েছিল। নির্বাচনের ফলাফল বেরনোর পর দেখা গেছে, তৃণমূলের গড়গুলোতেও আইপ্যাকের বুথ ম্যানেজমেন্ট বিশেষ কাজ করেনি। এই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখার পরেই অখিলেশ যাদব নিজের পুরনো অভিজ্ঞ সংগঠকদের ওপর ভরসা রাখার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। ২০২৭-এর মহাযুদ্ধে নামার আগে কোনো ঝুঁকি না নিয়ে আইপ্যাকের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ানোই এখন সমাজবাদী পার্টির প্রধান লক্ষ্য।





