ভোটার তালিকা তৈরির কাজে চরম গাফিলতি! পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ১০০০ BLও-কে শো কজ নোটিশ নির্বাচন কমিশনের

পশ্চিমবঙ্গে ‘স্পেশাল সামারি রিভিশন’ (SIR) বা বিশেষ সংক্ষিপ্ত সংশোধনের কাজ শুরু হওয়া এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা। এর আগে, প্রাথমিক প্রস্তুতি পর্বেই বড়সড় ধাক্কা খেল নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন সংক্রান্ত নির্দেশিকা অমান্য করার অভিযোগে রাজ্যের প্রায় ১০০০ বুথস্তরীয় আধিকারিক বা বিএলও-কে (BLo) শো কজ নোটিশ জারি করল নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই কারণ দর্শানোর নোটিশগুলি রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল অ্যাক্ট, ১৯৫০-এর অধীনে জারি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ইআরও)-এর বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও অনেক বিএলও ইআরও-নেট পোর্টালে নিজেদের নাম নথিভুক্ত করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
ইচ্ছাকৃত অবহেলা ও শাস্তির হুঁশিয়ারি
নোটিশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই ধরনের ব্যর্থতা ইচ্ছাকৃত অবহেলা এবং গুরুতর দায়িত্বে অবহেলার সামিল। রিপ্রেজেন্টেশন অফ দ্য পিপল অ্যাক্ট, ১৯৫০-এর ধারা ৩২ অনুযায়ী নির্বাচনী কাজের জন্য নিযুক্ত সকল আধিকারিককে ইসিআই-এর নির্দেশাবলি মেনে চলতে হয়।
কমিশন বিএলও-দের তিন দিনের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে বলেছে যে, কেন তাঁদের বিরুদ্ধে ‘ইচ্ছাকৃত অবহেলা’ এবং ‘সরকারি নির্দেশ অমান্য’ করার জন্য শাস্তিমূলক বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না? নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাঁরা সাড়া দিতে ব্যর্থ হলে আইন ও বিভাগীয় নিয়ম অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিজেপির অভিযোগ ও রাজনৈতিক চাপানউতোর
যদিও SIR-এর আগে ২০০২ ও ২০২৫ সালের ভোটার তালিকা মিলিয়ে দেখার ‘ম্যাপিং’-এর কাজ প্রায় শেষ, তবুও বেশ কয়েকজন বিএলও-র ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিজেপি অভিযোগ করেছে, অনেক জায়গায় স্থায়ী কর্মীদের কাজে না লাগিয়ে অস্থায়ী কর্মীদের কাজে লাগানো হচ্ছে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, অনেক বিএলও তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছেন।
বিজেপির আরও অভিযোগ, অনেক বিএলও নিরাপত্তার অভাব বোধ করেই কাজ করতে ভয় পাচ্ছেন। এই আবহে বিরোধী দলের নেতারা অবিলম্বে বিএলওদের নিরাপত্তা প্রদান করে ভোটার তালিকা দ্রুত চূড়ান্ত করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের বক্তব্য, সঠিক ভোটার তালিকা তৈরি না হলে রাজ্যে সুষ্ঠুভাবে ভোট হওয়া সম্ভব নয়।
এদিকে, কমিশনও স্বীকার করেছে যে, অনেক বিএলও নির্দেশিকা মেনে কাজ করেননি এবং গড়িমসি করছেন। এই শো কজ নোটিশগুলি সেই অসঙ্গতির বিরুদ্ধেই কড়া পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।