ভোটার তালিকায় নাম কি বাদ যাচ্ছে? SIR-এর জন্য ব্রহ্মাস্ত্র এই ১টি নথি, আজই জোগাড় করুন!

আপনি কি সংশ্লিষ্ট রাজ্যের স্থায়ী বাসিন্দা? আপনার কাছে কি ডোমিসাইল সার্টিফিকেট বা আবাসিক শংসাপত্র রয়েছে? যদি না থাকে, তবে এখনই সতর্ক হওয়ার সময় এসেছে। বিশেষ করে নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক নির্দেশের পর এই নথিটির গুরুত্ব কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে। ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ বা SIR-এর কাজে এখন ডোমিসাইল সার্টিফিকেট একটি অত্যন্ত অপরিহার্য নথি হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু এই সার্টিফিকেট ঠিক কী? কেনই বা এটি হঠাৎ এত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠল? কীভাবে আপনি এটি হাতে পাবেন? এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর রইল আজকের প্রতিবেদনে।

ডোমিসাইল সার্টিফিকেট আসলে কী? সহজ কথায় বলতে গেলে, ডোমিসাইল সার্টিফিকেট হল আপনার স্থায়ী বাসস্থানের সরকারি প্রমাণপত্র। কোনো নির্দিষ্ট রাজ্যে আপনি কত বছর ধরে বসবাস করছেন, এটি তারই স্বীকৃতি দেয়। সাধারণত রাজ্যভেদে এই সময়সীমা ভিন্ন হয়—কোথাও নূন্যতম ৩ বছর তো কোথাও ১৫ বছর স্থায়ী বসবাসের প্রমাণ প্রয়োজন হয়। চাকরি, পড়াশোনা থেকে শুরু করে এখন ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্ত করার ক্ষেত্রেও এটি বিশেষ মর্যাদা পাচ্ছে।

কমিশনের নয়া নির্দেশিকা: নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ১১টি নথির পাশাপাশি এখন ডোমিসাইল সার্টিফিকেটও গ্রাহ্য হবে। তবে এখানে একটি বিশেষ শর্ত রয়েছে। জেলা শাসক (DM), অতিরিক্ত জেলা শাসক (ADM) কিংবা মহকুমা শাসকের (SDO) সই করা শংসাপত্রই কেবল বৈধ বলে গণ্য হবে। অন্য কোনো আধিকারিকের সই করা নথি এক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য নয়।

আবেদনের জন্য কী কী নথি লাগবে? ডোমিসাইল সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন করতে গেলে আপনার কাছে নির্দিষ্ট কিছু তথ্য থাকা প্রয়োজন:

  • পরিচয়পত্র: আধার কার্ড, প্যান কার্ড বা ভোটার আইডি।

  • ঠিকানার প্রমাণ: বিদ্যুতের বিল, গ্যাস বিল, ইন্টারনেটের বিল অথবা ব্যাঙ্কের পাসবই।

  • অন্যান্য: পাসপোর্ট সাইজের ছবি, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং একটি স্ব-ঘোষণাপত্র। ভাড়াটেদের ক্ষেত্রে ভাড়ার চুক্তিনামা বা সংশ্লিষ্ট নথি প্রয়োজন।

কোথায় ও কীভাবে আবেদন করবেন? বর্তমানে অনলাইন এবং অফলাইন—উভয় পদ্ধতিতেই আবেদন করা সম্ভব। অনলাইন আবেদনের জন্য সংশ্লিষ্ট রাজ্যের ‘ই-ডিস্ট্রিক্ট’ পোর্টালে গিয়ে নাম নথিভুক্ত করতে হবে। এরপর প্রয়োজনীয় নথি আপলোড করে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়।

অফলাইনে আবেদনের ক্ষেত্রে আপনাকে যেতে হবে তহসিলদার অফিস, রাজস্ব অফিস, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অফিস অথবা মহকুমা ম্যাজিস্ট্রেটের দপ্তরে। এছাড়া নাগরিক পরিষেবা কেন্দ্র (CSC) থেকেও এই আবেদন করা যায়। আবেদনের জন্য রাজ্যভেদে ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত ফি লাগতে পারে। তবে পশ্চিমবঙ্গ-সহ কিছু রাজ্যে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে এটি বিনামূল্যে বা সামান্য ফি-র বিনিময়ে পাওয়া যায়।