সোমবার মধ্যরাতে নির্বাচন কমিশনের এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপে কার্যত তোলপাড় পড়ে গিয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন ‘বিবেচনাধীন’ ভোটারের ভাগ্য নির্ধারিত হওয়ার পর চূড়ান্ত তালিকা ‘ফ্রিজ’ করে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, নতুন কোনো নির্দেশ না এলে এই তালিকার ভিত্তিতেই হবে ভোট। কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হলো, বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম এবার বাদ পড়েছে।
একনজরে বাদ পড়া ভোটারের পাহাড়
পরিসংখ্যান বলছে, এবারের তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়াটি ছিল নজিরবিহীন:
সদ্য বাদ পড়েছেন: ২৭,১৬,৩৯৩ জন।
ফেব্রুয়ারিতে বাদ গিয়েছিলেন: ৬৩,৬৬,৯৫২ জন।
সর্বমোট ‘ডিলিটেড’ ভোটার: ৯০,৮৩,৩৪৫ জন।
কোন জেলায় কোপ সবথেকে বেশি?
তালিকায় দেখা যাচ্ছে, ভোটার ছাঁটাইয়ের নিরিখে সবথেকে খারাপ অবস্থায় রয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলা। অন্যদিকে, সবথেকে কম নাম বাদ পড়েছে ঝাড়গ্রামে।
জেলার প্রধান পরিসংখ্যান (টেবিল):
| জেলা | বিচারাধীন ভোটার | ডিলিটেড ভোটার |
| মুর্শিদাবাদ | ১১,০১,১৪৫ | ৪,৫৫,১৩৭ (সর্বোচ্চ) |
| উত্তর ২৪ পরগনা | ৫,৯১,২৫৩ | ৩,২৫,৬৬৬ |
| দক্ষিণ ২৪ পরগনা | ৫,২২,০৪২ | ২,২২,৯২৯ |
| নদিয়া | ২,৬৭,৯৪০ | ২,০৮,৬২৬ |
| মালদা | ৮,২৮,১২৭ | ২,৩৯,৩৭৫ |
| কলকাতা (উত্তর ও দক্ষিণ) | ১,৩৯,৮৯৩ | ১,২৩,৬৩২ |
| ঝাড়গ্রাম | ৬,৬৮২ | ১,২৪০ (সর্বনিম্ন) |
আরও বাড়তে পারে নাম বাদের সংখ্যা!
কমিশন সূত্রে খবর, বর্তমানে ৫৯ লক্ষ ৮৪ হাজার ৫১২ জনের পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়েছে। তবে এখনও ২২,১৬৩ জন ভোটারের নামের নিষ্পত্তি হয়ে গেলেও তাতে ‘ই-স্বাক্ষর’ বা ডিজিটাল সিগনেচার বাকি রয়েছে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা আরও কয়েক হাজার বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এখন কী করবেন ভোটাররা?
যেহেতু তালিকা ফ্রিজ হয়ে গিয়েছে, তাই সুপ্রিম কোর্ট নতুন কোনো নির্দেশ না দিলে নতুন করে নাম তোলার সুযোগ নেই। তবে যাঁরা ইতিমধ্যেই ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছেন, তাঁদের ভাগ্য কী হয় এখন সেটাই দেখার। আপনার নাম তালিকায় আছে কি না, তা এখনই কমিশনের পোর্টালে গিয়ে গুরুত্ব দিয়ে চেক করে নিন।





