ভোটার কার্ডে অস্তিত্বের সংকট, লিঙ্গ পরিবর্তনকারীদের রাতে ঘুম উধাও! আতঙ্কে রাজ্যের তৃতীয় লিঙ্গের মানুষজন

রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR – Special Intensive Revision)-এর প্রক্রিয়া। বাংলা-সহ দেশের মোট ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে চলা এই প্রক্রিয়া রাজ্যের তৃতীয় লিঙ্গের (Transgender) মানুষদের মধ্যে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তাঁরা আশঙ্কা করছেন, এই সংশোধনে তাঁদের ভোটার তালিকায় নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা কঠিন হতে পারে।
👉 অস্ত্রোপচার ও নাম বদল: সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ
এই সংশোধনে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন সেই সকল ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তি, যাঁরা Gender Reassignment Surgery (SRS) বা লিঙ্গ পরিবর্তনের জন্য অস্ত্রোপচার করিয়েছেন।
সম্রাজ্ঞী দত্ত নামে এক ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তি জানান, ২০০২ সালে তিনি তাঁর জন্মগত লিঙ্গ ও নাম ব্যবহার করে ভোট দিয়েছিলেন। কিন্তু অস্ত্রোপচারের পর তিনি নাম ও ছবি পরিবর্তন করে নতুন ভোটার কার্ড করিয়েছেন। তাঁর প্রশ্ন, SIR-এর সময় কি এই নতুন কার্ড বৈধতা হারাবে?
কল্পনা নস্কর প্রশ্ন তোলেন, যেহেতু তাঁর পরিবারের সঙ্গে বর্তমানে কোনো যোগাযোগ নেই, তাই তিনি নতুন ভোটার কার্ড করার সময় বাবা-মায়ের নামের বদলে ‘গুরুমা’র নাম ব্যবহার করেছেন। সংশোধনের সময় এই তথ্য নিয়ে কোনো জটিলতা তৈরি হবে কি না।
অঞ্জলি মণ্ডল-এর মতো অনেকেই আবার এফিডেভিট না থাকায় এবং বুথ লেভেল অফিসারদের কাছে এনুমেরাশন ফর্ম পূরণের সঠিক প্রক্রিয়া কী হবে, তা নিয়ে বিভ্রান্তিতে আছেন।
✉️ কেন্দ্রীয় সরকারের দ্বারস্থ ট্রান্সজেন্ডার অ্যাক্টিভিস্ট
এই গভীর সংকটের কথা তুলে ধরে রাজ্যের গরিমা গৃহের ডিরেক্টর ও ট্রান্সজেন্ডার অ্যাক্টিভিস্ট রঞ্জিতা সিনহা কেন্দ্রীয় সরকারের সামাজিক ন্যায়বিচার ও ক্ষমতায়ন মন্ত্রণালয়ে (Ministry of Social Justice and Empowerment) চিঠি দিয়েছেন।
রঞ্জিতা সিনহার অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকার জন্য যে ১১টি নথির কথা উল্লেখ করেছে, সেখানে ট্রান্সজেন্ডারদের আইডেন্টিটি কার্ডের কোনো উল্লেখ নেই। তাঁর বক্তব্য, ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে বর্তমানের বহু ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তির নাম ও ছবির বিস্তর অমিল রয়েছে, যা এই সংশোধনের সময় তাঁদের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলবে।
✅ রাজ্য নির্বাচন দফতরের আশ্বাস: “আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই”
যদিও রাজ্য নির্বাচন দফতরের এক আধিকারিক তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের আশ্বস্ত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এসআইআর নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই এবং তৃতীয় লিঙ্গের বিষয়টি বিশেষভাবে গ্রাহ্য করা হবে।
ফর্ম পূরণের নির্দেশিকা:
যেখানে ২০০২ সালের ভোটার তালিকার ভিত্তিতে তথ্য পূরণ করতে বলা হচ্ছে, সেখানে সেই সময়ের পুরোনো নাম ব্যবহার করতে হবে।
যেখানে বর্তমানের তথ্য চাওয়া হচ্ছে, সেখানে বর্তমান নাম ও তথ্য দিতে হবে।
রাজ্য নির্বাচন কমিশন সূত্রের খবর, শুনানির সময় তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিদের সমস্যাগুলি বিশেষভাবে শোনা হবে। তবে চূড়ান্ত সুরাহার জন্য কেন্দ্রীয় স্তরে রঞ্জিতা সিনহার যোগাযোগ ফলপ্রসূ হয় কি না, সেই দিকেই তাকিয়ে আছেন রাজ্যের তৃতীয় লিঙ্গের সমাজ।