উত্তাল KIFF-এর মঞ্চ! ‘সর্বোচ্চ সম্মান’ পেয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে কী বললেন শত্রুঘ্ন সিনহা? ৭ দিনে কী কী দেখবেন?

বছরভর অপেক্ষার পর অবশেষে শুরু হলো বাঙালির সিনেমার মহা-উৎসব— ৩১তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব (KIFF)। বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর, কলকাতার বিলাসবহুল ধনধান্য প্রেক্ষাগৃহে জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই চলচ্চিত্র পার্বণের উদ্বোধন হলো।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকে সাড়া দিয়ে এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন চলচ্চিত্র জগতের তাবড় নক্ষত্ররা, রাজ্যের প্রতিনিধিরা এবং আমন্ত্রিত বিদেশি অতিথিরা।

✨ নক্ষত্রখচিত মঞ্চে চমক!
এবারের KIFF-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বলিউড স্টার শত্রুঘ্ন সিনহা, কিংবদন্তী পরিচালক রমেশ সিপ্পি, সঙ্গীতশিল্পী আরতি মুখোপাধ্যায়, প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, পরিচালক সুজয় ঘোষ এবং অভিনেত্রী তিলোত্তমা সোম।

এছাড়াও টলিউডের প্রায় সমস্ত উজ্জ্বল মুখ এদিন মঞ্চ আলোকিত করেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন— গৌতম ঘোষ, রঞ্জিত মল্লিক, লিলি চক্রবর্তী, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, দেব, জিৎ, চিরঞ্জিত চট্টোপাধ্যায়, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, কোয়েল মল্লিক, রাজ চক্রবর্তী, পাওলি দাম সহ আরও অনেকে।

🏆 সর্বোচ্চ সম্মান ‘বঙ্গবিভূষণ’
উদ্বোধন অনুষ্ঠানের সবচেয়ে বড় চমক ছিল ‘বঙ্গবিভূষণ’ সম্মাননা প্রদান। এই দিন মঞ্চ থেকেই রাজ্যের সর্বোচ্চ এই সম্মান তুলে দেওয়া হয় প্রবীণ সঙ্গীতশিল্পী আরতি মুখোপাধ্যায় এবং অভিনেতা-সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহা-এর হাতে।

এই সম্মান পেয়ে মঞ্চেই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন দু’জনেই।

“ভারতীয় ছবি আমাদের গর্ব। গত পাঁচ বছর ধরে আমি প্রতিবার আসছি। তবে এবার সত্যি খুব খুশি হয়েছি এবং চমক পেয়েছি। কারণ আমি সত্যি এটা জানতাম না। এখানে এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের থেকে জানলাম, আমি বঙ্গবিভূষণ সম্মান পেলাম। সর্বোচ্চ এই সম্মান আমায় দেওয়া হলো,”— কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন শত্রুঘ্ন সিনহা।

🎙️ আরতি-মমতার আবেগঘন বার্তা
আরতি মুখোপাধ্যায় প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আরতি দি আমাদের অনেক কিছু দিয়েছেন… আমরা কোনো দিন তাঁকে কিছু দিতে পারিনি, কোনো সম্মান জানাতে পারিনি। আজ, বাংলার সর্বোচ্চ সম্মান বঙ্গবিভূষণ তাঁর হাতে তুলে দিতে পেরে আমরা খুব কৃতজ্ঞ।”

মমতার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে আরতি মুখোপাধ্যায় বলেন, “আমি খুব ভালোবেসে এই সম্মান নিয়েছি। মমতা তুমি যেভাবে কাজ করো আমি তা খুব পছন্দ করি। বিশেষত সঙ্গীত এবং শিল্পীদের জন্য তোমার অনেক অবদান। যে কোনো সমস্যায় তুমি সকলের পাশে যেভাবে দাঁড়াও, আমি কখনও কোনো মুখ্যমন্ত্রীকে দেখিনি এভাবে পাশে থাকতে।”

🎬 ৭ দিনের সিনেমা উৎসবের সূচি ও বিশেষ আকর্ষণ
সময়কাল: ৩১তম KIFF চলবে ৬ থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত।

পার্টনার দেশ: এবছর উৎসবের পার্টনার দেশ পোল্যান্ড।

উদ্বোধনী ছবি: অজয় কর পরিচালিত, উত্তম কুমার-সুচিত্রা সেন অভিনীত কিংবদন্তী ছবি ‘সপ্তপদী’। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে ছবিটি প্রদর্শিত হয়।

কত ছবি: ভারত-সহ মোট ৩৯টি দেশ থেকে বাছাই করা ২১৫টি ছবি দেখানো হবে। এর মধ্যে রয়েছে ১৮৫টি পূর্ণ দৈর্ঘ্যের ছবি এবং ৩০টি স্বল্প দৈর্ঘ্যের ছবি।

ভাষার বৈচিত্র্য: ১৮টি ভারতীয় ভাষা এবং ৩০টি বিদেশি ভাষার ছবি প্রদর্শিত হবে। আঞ্চলিক শিল্পীদের উৎসাহ দিতে কোঙ্কনি, বোরো, তুলু, সাঁওতালি-সহ নানা উপভাষার ছবিতে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।

চেয়ারম্যান: এই বছরও চলচ্চিত্র উৎসবের চেয়ারপার্সন রূপে থাকছেন গৌতম ঘোষ এবং কো-চেয়ারম্যান হিসাবে থাকছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়।

বিশেষ শ্রদ্ধা: ঋত্বিক ঘটকের শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে তাঁর কালজয়ী ছবিগুলি (যেমন: ‘অযান্ত্রিক’, ‘মেঘে ঢাকা তারা’, ‘তিতাস একটি নদীর নাম’) প্রদর্শিত হবে।

সিনে আড্ডা: মুখ্যমন্ত্রী যার নাম দিয়েছেন ‘গানে গানে সিনেমা’।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এবছর ৯টা দেশের সিনেমা দেখানো হবে। রমেশ সিপ্পি বলেছেন বাংলায় কাজ করবেন, সেজন্য তাঁকে ধন্যবাদ। সিনেমা মানবতার ভাষা, সিনেমার কোনো সীমারেখা নেই।”