ভোটমুখী বিহারে মা দুর্গা মোদি, মহিষাসুর বিরোধীরা? মোদির জন্মদিনে পোস্টার ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে

ভোটের মুখে উত্তপ্ত বিহারের রাজনীতি। ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে পটনায় একটি পোস্টার ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে। এই পোস্টারে প্রধানমন্ত্রীকে ‘সিংহ’ এবং তাঁর প্রয়াত মা হীরাবেনকে ‘দুর্গা’ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। অন্যদিকে, বিরোধী জোটের শীর্ষ নেতারা— রাহুল গান্ধী, তেজস্বী যাদব, অখিলেশ যাদব, হেমন্ত সোরেন, এমকে স্ট্যালিন এবং রেবন্ত রেড্ডিকে দেখানো হয়েছে মহিষাসুরের রূপে।

পোস্টারটিতে লেখা রয়েছে, ‘মা কা অপমান নহি সহেগা হিন্দুস্তান…দুষ্টোঁ কা নাশ করতি মা। জন্মদিনে আন্তরিক শুভেচ্ছা’। পোস্টারের এই বিষয়বস্তু নিয়ে বিরোধী দলগুলি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস নেতা সৌম্য আইচ রায় এই ঘটনাকে ‘ভোটসর্বস্ব’ রাজনীতির প্রতিফলন বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, “উনি তো বলেছেন, বায়োলজিক্য়াল নন! মাকে অপমান করেছেন। ভোটমুখী বিহারে মায়ের পিণ্ডদান করতে আসছেন। এটা একটা ফ্যাসিস্ট সরকারের মুখ, যারা বিরোধীদের শত্রু মনে করে।” তিনি আরও বলেন, “সিংহ বলবেন না। ৫৬ ইঞ্চির সিংহ আমেরিকার সামনে কেমন চুপ থাকে, যখন আমেরিকা আমাদের ধমকায়, অপমান করে, তখন সিংহরূপ দেখা যায় না।”

তৃণমূলের আইটি সেলের প্রধান দেবাংশু ভট্টাচার্য ধর্ম নিয়ে বিজেপির অজ্ঞতার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “প্রথম কথা হল, ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করা দলটার, ধর্ম সম্পর্কেও আইডিয়া নেই। রাবণের একাধিক মাথা ছিল, মহিষাসুরের নয়। ছবিতে পাঁচ-সাতটা মাথা দেখানো হয়েছে অসুরের।” তিনি মনে করিয়ে দেন, ২০২১ সালের বাংলা নির্বাচনে মমতাকে ‘দুর্গারূপ’ এবং মোদিকে ‘মোদিশাহসুর’ বলা হয়েছিল। তিনি বলেন, “বাংলায় এক নারীকেই এগিয়ে দিয়েছিল মানুষ। তাই আসল দুর্গা কে, আসল অসুর কে, তা বাংলা দেখিয়েছে এবং কয়েক মাস অপেক্ষা করুন। বাংলার উমাও আসছেন মোদিশাহসুরমর্দিনী হিসেবে।”

সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী এই পোস্টারকে রাজনৈতিক কার্টুন হিসেবে দেখতে রাজি নন। তিনি বলেন, “এমনি কার্টুনের প্রশংসা হওয়া উচিত, কিন্তু নরেন্দ্র মোদির যে মনোভাব, তাতে প্রশংসা করতে পারবেন না। বিভাজনের রাজনীতি পছন্দ করেন তো!” তিনি জওহরলাল নেহেরু এবং জ্যোতি বসুকে নিয়ে তৈরি কার্টুনের উদাহরণ দেন, যা তাঁরা প্রশংসা করেছিলেন। সুজন চক্রবর্তী আরও বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও কার্টুনকে কার্টুন হিসেবে দেখতে পারেননি, তাই অম্বীকেশ মহাপাত্রকে গ্রেফতার করা হয়।”

বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেছেন যে, প্রধানমন্ত্রী মোদি বিশ্বের জনপ্রিয়তম রাজনৈতিক নেতা এবং তাঁর জনপ্রিয়তা সর্বব্যাপী। তিনি বলেন, “কোন উৎসাহী কীভাবে তাঁকে দেখবেন, কীভাবে চিত্রায়িত করবেন, তার দায়িত্ব দল বা সরকার নিতে পারে না।” তিনি মোদিকে সিংহের সঙ্গে তুলনা করাকে সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে তাঁর পদক্ষেপের প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, “তাঁর সিংহবিক্রম দেখে কেউ উৎসাহিত হলে হবেন। কিন্তু কাউকে অসুর বানানো ঠিক নয়। তবে মা তো মা-ই। এটা দল বা সরকার বলেনি, কেউ উৎসাহিত হয়ে করেছেন। এটা নিয়ে যাঁরা কথা বলছেন, তাঁরা ভুলে যাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই তো দুর্গা বানিয়ে দেওয়া হয়েছে!”

নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে ব্যক্তিগত আক্রমণও তত বাড়ছে। সম্প্রতি মোদির মায়ের উদ্দেশেও কটূক্তি শোনা যায়, যা নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই এই পোস্টারটি সামনে এল। বিরোধীদের দাবি, মোদি নিজেই অন্যের মা-স্ত্রীকে নিয়ে কথা বলে এই ধরনের রাজনীতির পথ দেখিয়েছেন।