ভোটমুখী বিহারে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ! মোদীর সফরের আগে তোপ দাগলেন তেজস্বী

বিহার বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার আগেই রাজনৈতিক ময়দানে শুরু হয়েছে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের খেলা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিহার সফরের আগে, আরজেডি নেতা ও ‘ইন্ডি’ জোটের মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী তেজস্বী যাদব এনডিএ এবং নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে কটাক্ষ ছুঁড়ে দিয়েছেন।
সোমবার বিহারের পুনেরায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভা রয়েছে। এই সফরের আগে তেজস্বী যাদব তোপ দাগেন, “প্রধানমন্ত্রী রাজ্যে এসে শুধু অনুপ্রবেশের মতো অপ্রয়োজনীয় বিষয় নিয়ে কথা বলবেন, রাজ্যের আসল সমস্যা নিয়ে নয়।” প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর পুত্র কটাক্ষ করে বলেন, “আমি মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার এবং প্রধানমন্ত্রীকে বলব, পুনেরা মেডিকেল কলেজটা ঘুরে আসতে। তাহলে বিহারের আসল সমস্যার কিছুটা হলেও আন্দাজ পাবেন তাঁরা।”
১৫ সেপ্টেম্বর বিহারে মোদী
আগামীকাল, পুনেরার শিশাবাড়ি গ্রামে এক বিশাল জনসভায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই সভায় পুনেরা, কাটিহার, আরারিয়া এবং কিষানগঞ্জ জেলার লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হওয়ার কথা। মোদী এই সফরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
জাতীয় মাখানা বোর্ডের উদ্বোধন: বিহারে মাখানা উৎপাদন ও ব্যবসা বৃদ্ধির জন্য এই বোর্ড কাজ করবে। দেশের ৯০% মাখানা বিহারেই উৎপাদিত হয়।
পুনেরা বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনাল বিল্ডিং: এটি পুনেরা জেলাকে দেশের অন্যান্য অংশের সঙ্গে যুক্ত করতে সাহায্য করবে।
৩৬ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প: পুনেরা জেলায় একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন তিনি।
তেজস্বীর তোপ: বেকারত্ব, দুর্নীতি ও অপরাধ
বিহারের ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব, দুর্নীতি এবং অপরাধের হার নিয়ে এনডিএ সরকারের বিরুদ্ধে ক্রমাগত আক্রমণ শানাচ্ছেন তেজস্বী যাদব। গত বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, “বিহারে অপরাধ বাড়ছে, আর মুখ্যমন্ত্রী ও উপমুখ্যমন্ত্রী সেইসব অপরাধীদের আশ্রয় দিচ্ছেন।”
এছাড়াও, ভোটার তালিকা সংশোধনে সুপ্রিম কোর্টের আধার কার্ডকে বৈধতা দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এটি আমাদের জন্য বড় জয়। আমরা ভোটার তালিকা সংশোধনের বিরুদ্ধে নই, কিন্তু যেভাবে নির্বাচন কমিশন বিহারে বিশেষ নিবিড় সংশোধন করছে, আমরা তার বিরোধিতা করি।”
নির্বাচনের আর মাত্র দুই মাস বাকি। এর মধ্যেই মোদীর সফর এবং তেজস্বীর তীব্র কটাক্ষ প্রমাণ করে দিয়েছে, বিহারে ভোটযুদ্ধের দামামা বেজে গেছে। আগামী দিনে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।