জোড়াফুল প্রতীক থাকবে কার হাতে? নির্বাচন কমিশনের মুখোমুখি ঋতব্রত, বড় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রাজনৈতিক মহল!

তৃণমূলের দলীয় স্বীকৃতি এবং বহুল আলোচিত ‘জোড়াফুল’ প্রতীক সংক্রান্ত জটিলতা কাটাতে এবার সরাসরি আসরে নামল নির্বাচন কমিশন। আগামী ১২ সেপ্টেম্বর দিল্লির দ্বারকায় ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ইলেকশন ম্যানেজমেন্টে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছে কমিশন। গত ২২ জুন পাঠানো একটি চিঠির প্রেক্ষিতে কমিশন এই সাক্ষাতের সময় নির্ধারণ করেছে। পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা ও মেঘালয়ে দলের স্বীকৃতি এবং প্রতীক নিয়ে জমা পড়া বিভিন্ন প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে এই বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, এখন তারই অপেক্ষায় রাজনৈতিক মহল।
এদিকে, আগামী ৬ অক্টোবর রাজ্যজুড়ে হতে চলা নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচন ঘিরেও পারদ চড়তে শুরু করেছে। এই দুই গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে প্রার্থী বাছাই চূড়ান্ত করতে আগামীকাল, বৃহস্পতিবারই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসছে ঋতব্রতর নেতৃত্বাধীন নব তৃণমূল নেতৃত্ব। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আপাতত জোড়াফুল প্রতীককেই হাতিয়ার করে উপনির্বাচনে লড়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। তবে নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে প্রতীক না পাওয়া গেলে শেষ পর্যন্ত নির্দল প্রার্থী হিসেবে লড়াইয়ের বিকল্প পথও খোলা রাখছে দল। ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে মনোনয়ন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া, যা চলবে আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। দলীয় সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর দুই কেন্দ্রের প্রার্থীরা তাঁদের মনোনয়ন দাখিল করতে পারেন।
অন্যদিকে, প্রার্থীর নাম সরকারিভাবে ঘোষণা না হলেও প্রচারে একচুলও জমি ছাড়তে নারাজ বিরোধীরা। ইতিমধ্যেই জোরকদমে প্রচার শুরু করে দিয়েছে বামফ্রন্ট। অন্যদিকে, নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে রেকর্ড ব্যবধানে জয়ের বিষয়ে চরম আত্মবিশ্বাসী মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এই কেন্দ্রের জয়ের ব্যবধান অতীতের সমস্ত রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর ২০২৬ সালেও এই আসনটি রাজনৈতিক ময়দানে অন্যতম প্রধান আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে রয়েছে। এখন ১২ সেপ্টেম্বরের কমিশন বৈঠক এবং আগামী অক্টোবরের উপনির্বাচনের ফল কার পক্ষে যায়, সেটাই দেখার।