আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে’, প্রেমিকাকে খুনের অভিযোগ উঠতেই সাফাই মালদা মেডিক্যালের ছাত্রের

আরজি কর হাসপাতালের চিকিৎসক ছাত্রী অনিন্দিতা সোরেনের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় তার প্রেমিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতের নাম উজ্জ্বল সোরেন, যিনি মালদা মেডিক্যাল কলেজের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। মৃতার মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে তার হস্টেল থেকে আটক করা হয় এবং পরে গ্রেফতার করা হয়। যদিও উজ্জ্বল তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
শনিবার অনিন্দিতার মা আলপনা টুডু মালদার ইংরেজবাজার থানায় মেয়ের প্রেমিক উজ্জ্বলের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি জানান, উজ্জ্বল তার মেয়েকে গর্ভপাত করানোর জন্য জোর করে একটি ওষুধ খাইয়েছিলেন, যার ফলে অনিন্দিতার মৃত্যু হয়েছে। অভিযোগ পেয়েই পুলিশ তৎপর হয়ে ওঠে। রাতভর জেরার পর রবিবার ভোররাতে উজ্জ্বলকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে আদালতে পেশ করে ৭ দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানানো হলে আদালত ৬ দিনের হেফাজত মঞ্জুর করে।
কী বলছেন ধৃত?
পুলিশের জেরায় এবং সংবাদমাধ্যমের সামনে উজ্জ্বল সোরেন দাবি করেন, অনিন্দিতার সঙ্গে তার বিয়ে হয়নি এবং তার মাধ্যমে গর্ভপাতও করানো হয়নি। তিনি বলেন, “আমি ওকে কোনও ওষুধ খাওয়াইনি। ও নিজে অসুস্থ হয়ে প্যারাসিটামল খেয়েছিল।” তিনি আরও বলেন, “যখন ওকে শেষবার দেখেছিলাম, তখন ওর মুখ দিয়ে কোনও ফেনা বেরোয়নি। ওর মা কেন এমন অভিযোগ করছেন, তা জানি না। তবে অনিন্দিতা বাড়িতে থাকার সময়ও দু-তিনবার নিজেকে শেষ করে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল।”
মৃতার মায়ের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ
আলপনা টুডু জানিয়েছেন, এক মাস আগে তিনি জানতে পারেন তার মেয়ে এক মাসের অন্তঃসত্ত্বা। তিনি আরও বলেন, উজ্জ্বল জোর করে একটি মন্দিরে অনিন্দিতাকে বিয়েও করেছিলেন। মেয়ের গর্ভবতী হওয়ার খবর শোনার পর থেকেই উজ্জ্বল তার থেকে দূরত্ব বাড়াতে শুরু করেন। গত সোমবার উজ্জ্বল অনিন্দিতাকে মালদায় ডেকে পাঠান, এরপর থেকে মেয়ে আর বাড়ি ফেরেনি।
আলপনার অভিযোগ, উজ্জ্বল তার মেয়েকে ভুল বুঝিয়ে কলকাতার একটি নার্সিং হোমে নিয়ে গিয়ে গর্ভপাত করান। এরপর থেকে সম্পর্ক আরও খারাপ হতে শুরু করে। তিনি মনে করেন, ঝগড়ার জেরেই উজ্জ্বল অনিন্দিতাকে জোর করে ওষুধ খাইয়ে দেন এবং তার মৃত্যু হয়।
তদন্তে পুলিশের সামনে নতুন প্রশ্ন
এই ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অনিন্দিতা বেশ কয়েকবার মালদায় এসেছিলেন এবং প্রতিবারই তিনি মালদা মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রীদের হস্টেলে রাত্রিবাস করেছেন। এই বিষয়টি ঘিরে মালদা মেডিক্যাল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
অন্য কলেজের একজন ছাত্রীকে কীভাবে হস্টেলে থাকার অনুমতি দেওয়া হল?
হস্টেল সুপারের নজর এড়িয়ে অনিন্দিতা কীভাবে সেখানে থাকতেন?
মালদা মেডিক্যাল কলেজের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কি যথেষ্ট মজবুত নয়?
এছাড়াও, অনিন্দিতার অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবর পাওয়ার পর তার পরিবার কেন উজ্জ্বলের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি, সেই নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। তদন্ত চলছে এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।