ভোটচুরি আটকাতে এবার নতুন অস্ত্র! ভোটার কার্ডে e-sign বাধ্যতামূলক করল নির্বাচন কমিশন

ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার একাধিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে এবার নড়েচড়ে বসেছে নির্বাচন কমিশন। সম্প্রতি কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, কর্নাটকের আলন্দ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে ৬ হাজার ভোটারের নাম বেআইনিভাবে বাতিল করার চেষ্টা হয়েছে। এই অভিযোগের পর নড়েচড়ে বসেছে কমিশন। ভুয়ো ভোটার এবং অনিয়ম রুখতে ecinet পোর্টাল ও অ্যাপে একটি নতুন ‘ই-সাইন’ (e-sign) বৈশিষ্ট্য চালু করা হয়েছে।
এতদিন পর্যন্ত ভোটাররা রেজিস্ট্রেশন বা নাম বাদ দেওয়ার জন্য কোনো যাচাই ছাড়াই ফর্ম জমা করতে পারতেন, যা ভুয়ো আবেদনের সুযোগ তৈরি করত। নতুন এই পদ্ধতির মাধ্যমে সেই সমস্যা দূর করা সম্ভব হবে। এখন থেকে ভোটাররা নিজেদের আধার কার্ডের সঙ্গে যুক্ত মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে অনলাইনে ফর্ম জমা দিতে পারবেন।
কীভাবে কাজ করবে নতুন এই সিস্টেম?
নির্বাচন কমিশনের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যখন কোনো ব্যক্তি ecinet পোর্টালে ফর্ম ৬ (নতুন রেজিস্ট্রেশনের জন্য), ফর্ম ৭ (নাম বাদ দেওয়ার জন্য) অথবা ফর্ম ৮ (ভুল সংশোধনের জন্য) পূরণ করবেন, তখন তাকে অবশ্যই ই-সাইন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা করতে হবে। এই পদ্ধতির জন্য কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে:
১. ভোটার কার্ড এবং আধার কার্ডে নাম একই থাকতে হবে।
২. আধার কার্ডের সঙ্গে মোবাইল নম্বর যুক্ত থাকতে হবে।
৩. আধার নম্বর দেওয়ার পর একটি ওটিপি (OTP) আসবে ফোনে।
৪. ওটিপি দিয়ে সম্মতি দেওয়ার পর আবেদন যাচাই সম্পন্ন হবে।
এই নতুন প্রক্রিয়াটি ভুয়ো আবেদন রুখে দিতে অত্যন্ত কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। রাহুল গান্ধীর অভিযোগের পর পরই এই নতুন ব্যবস্থা চালু হওয়ায়, রাজনৈতিক মহলে এটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।