ভেজাল ওষুধ রুখতে কড়া নবান্ন, সরকারি হাসপাতালে প্রবেশের আগে প্রতিটি ব্যাচের মান যাচাই বাধ্যতামূলক

মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থানে কফ সিরাপ বিপর্যয়ের মতো মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রুখতে এবার বড়সড় পদক্ষেপ নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে এখন থেকে সরকারি হাসপাতালগুলিতে ওষুধ সরবরাহের আগে প্রতিটি ব্যাচের গুণমান পরীক্ষা করা বাধ্যতামূলক করা হলো।
নবান্ন সূত্রে খবর, ভেজাল ও নিম্নমানের ওষুধ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সম্প্রতি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সেই প্রেক্ষিতেই দ্রুত পদক্ষেপ নিতে স্বাস্থ্য ভবনকে নির্দেশ দেন তিনি। এর পরেই রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম এক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা জারি করেন।
হাসপাতালে ঢোকার আগেই ‘NAB L সার্টিফিকেট’
নতুন নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, এতদিন জেলা এবং কলকাতার সরকারি হাসপাতালগুলিতে ওষুধ পৌঁছনোর পর সেগুলির ব্যাচ টেস্ট করা হতো। কিন্তু এখন থেকে এই পদ্ধতি আর চলবে না।
বদলে যাওয়া নিয়মে বলা হয়েছে—
যেসব বেসরকারি সংস্থা রাজ্য সরকারকে ওষুধ সরবরাহ করবে, তাদের সরবরাহের সময় প্রতিটি ব্যাচের মান পরখের সার্টিফিকেট জমা দিতে হবে সেন্ট্রাল মেডিসিন স্টোরে।
এই সার্টিফিকেট অবশ্যই এনএবিএল (ন্যাশনাল অ্যাক্রিডিটেশন বোর্ড ফর ল্যাবরেটরিজ়) স্বীকৃত পরীক্ষাগার থেকে প্রাপ্ত হতে হবে।
শুধুমাত্র সার্টিফিকেট জমা দেওয়ার পরেই সেই ওষুধের নাম স্টোর ম্যানেজমেন্ট ইনফর্মেশন সিস্টেম (SMIS) পোর্টালে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
এর পরেই মিলবে সরকারি পর্যায়ে ওষুধ বণ্টনের চূড়ান্ত অনুমোদন।
নবান্নের এক উচ্চপদস্থ কর্তা জানিয়েছেন, “সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন রাজ্যে একের পর এক ভেজাল ওষুধের ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। জনগণের স্বাস্থ্যের কথা ভেবেই আগেভাগে এই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”
মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধে কোপ, বৃহস্পতিবারের মধ্যে রিপোর্ট তলব
শুধু মান যাচাই নয়, মজুত ওষুধের ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি শুরু করেছে স্বাস্থ্যভবন। ইতিমধ্যে সব সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও জেলা স্বাস্থ্য প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তাদের মজুত ওষুধের ‘এক্সপায়ারি ডেট’ উল্লেখ করে জরুরি রিপোর্ট জমা দিতে হবে।
স্বাস্থ্যসচিব চিঠি পাঠিয়ে সব মেডিক্যাল কলেজের সুপার, উপাধ্যক্ষ এবং জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছেন, মেয়াদের মধ্যে থাকা ওষুধ ব্যবহারের পাশাপাশি মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধের তালিকা তৈরি করে তা বাতিলের খাতায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং ১৬ অক্টোবরের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট স্বাস্থ্য ভবনে পাঠাতে হবে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি সেন্ট্রাল ড্রাগস স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশন (CDSCO) সমস্ত কফ সিরাপ ও তরল ওষুধে ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান রয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছিল। সেই নির্দেশ মেনেই এবার আরও একধাপ এগিয়ে এই কড়া নিয়ম কার্যকর করল রাজ্য সরকার। এই সিদ্ধান্তের ফলে সরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও বাড়বে বলে আশা করছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর।