ভিনরাজ্যে বাঙালি শ্রমিক মৃত্যু, উত্তরপ্রদেশের রেললাইনে উদ্ধার বীরভূমের যুবকের দেহ, ষড়যন্ত্রের অভিযোগে চাঞ্চল্য

ফের ভিনরাজ্যে বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিক হেনস্থা ও মর্মান্তিক মৃত্যুর অভিযোগ সামনে এলো। এবার উত্তরপ্রদেশের রেললাইনের পাশ থেকে উদ্ধার হয়েছে বীরভূম জেলার পাড়ুই থানার দামোদরপুর গ্রামের বাসিন্দা প্রতীক হেমব্রম নামে এক যুবকের মৃতদেহ। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এবং পরিবারের পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি তোলা হয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় পাঁচ মাস আগে প্রতীক হেমব্রম (৩৩) চেন্নাইয়ে কাজের সন্ধানে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন। তিনি চেন্নাইয়ে একটি কাজে নিযুক্ত ছিলেন বলেই পরিবারের সদস্যরা জানতেন। কিন্তু হঠাৎ করেই উত্তরপ্রদেশের রেললাইনের ধারে তাঁর মৃতদেহ পাওয়া যাওয়ায় প্রতীকের মৃত্যু নিয়ে রহস্য ঘনীভূত হয়েছে।

পরিবারের দাবি: ষড়যন্ত্রের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চাই
মৃতের পরিবার জানিয়েছে, প্রতীকের দেহ বর্তমানে মধ্যপ্রদেশে রয়েছে এবং প্রশাসনের সহায়তায় মৃতদেহটি রাজ্যে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে। তবে ঠিক কীভাবে এবং কোন পরিস্থিতিতে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও অজানা।

পরিবারের সদস্যদের দাবি, এই মর্মান্তিক মৃত্যুর পেছনে যদি কোনও ষড়যন্ত্র বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থাকে, তবে তার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হোক। কে বা কারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা যেন দ্রুত প্রকাশ্যে আসে— এই দাবি তুলেছেন তাঁরা।

তৃণমূলের তীব্র প্রতিক্রিয়া: ‘যোগীর জঙ্গলরাজ’
ঘটনার খবর জানাজানি হতেই রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস যোগী সরকার তথা উত্তরপ্রদেশ প্রশাসনকে একহাত নিয়েছে। অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে মৃত শ্রমিকের ছবি পোস্ট করে বলা হয়:

“যোগীর জঙ্গলরাজে বাঙালি শ্রমিকরা নিরাপদ নয়। বীরভূমের যুবক প্রতীক হেমব্রমের মৃত্যু বাঙালি বিদ্বেষের ফল।”

অন্যদিকে, সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে তাৎক্ষণিকভাবে ছয়জনের একটি প্রতিনিধি দল মৃত পরিযায়ী শ্রমিকের বাড়িতে পাঠানো হয়। এদিন মৃত পরিযায়ী শ্রমিকের পরিবারের সাথে দেখা করতে বাড়িতে আসেন রাজ্য সভার সাংসদ তথা রাজ্য পরিযায়ী শ্রমিক কল্যাণ দপ্তরের সভাপতি সামিরুল ইসলাম, বিধায়ক দুলাল মুর্মু সহ অন্যান্য রাজনৈতিক নেতৃত্ব। এই প্রতিনিধি দলে অ্যাসিস্ট্যান্ট লেবার কমিশনার অফিসার এবং সরকারি আধিকারিকেরা উপস্থিত ছিলেন।

বীরভূম জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও ইতিমধ্যেই উত্তরপ্রদেশ প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং প্রতীকের দেহ দ্রুত রাজ্যে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে।