খেলোয়াড় গড়তে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন কোচ! মহাভারতের নয়, উত্তর ২৪ পরগনার বাস্তবের ‘দ্রোণাচার্য’ সৌভিক আইচ

রাজ্য সরকার যখন যুব সমাজকে ক্রীড়া ক্ষেত্রে এগিয়ে নিয়ে যেতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে, ঠিক তখনই উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বুকে একের পর এক উদীয়মান প্রতিযোগী নিজেদের সাফল্যের মাধ্যমে রাজ্যের মুখ উজ্জ্বল করছেন। তাঁদের এই সাফল্যের পেছনে রয়েছেন তাঁদের কোচ— বাস্তবের ‘দ্রোণাচার্য’ হিসেবে পরিচিত সৌভিক আইচ।

কঠোর পরিশ্রম, অধ্যাবসায় আর লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে প্রত্যন্ত এলাকার প্রতিভারা পৌঁছে যাচ্ছেন জাতীয় মঞ্চে। কোচ সৌভিক আইচ নিজেকে একেবারে দ্রোণাচার্যের মতো উৎসর্গ করে দিয়েছেন তাঁর ছাত্র-ছাত্রীদের গড়ে তুলতে।

জাতীয় মঞ্চে জেলার মুখ উজ্জ্বল
সৌভিক আইচের প্রশিক্ষণেই উত্তর ২৪ পরগনার প্রত্যন্ত এলাকার প্রতিভারা আজ রাজ্য ও জাতীয় স্তরে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করছেন। এই প্রতিযোগীরা যেন অন্ধকারের মধ্যে আলোর দিশা।

জাতীয় স্তরে পদক: সম্প্রতি জুঁইন মান্টুসা ও কিংশুক পাল সারা দেশের বয়সভিত্তিক অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতায় হাই জাম্পে যথাক্রমে সোনা ও রূপো জিতে এনেছেন।

পূর্বাঞ্চলীয় সাফল্য: এছাড়া পূর্বাঞ্চলীয় প্রতিযোগিতাতেও অর্পিতা সরকার, কিংশুক দত্ত, রুকসানা খাতুন ও সীমা খাতুন পদক জিতে রাজ্যের নাম উজ্জ্বল করেছেন।

এই প্রতিযোগীরা ইতিমধ্যেই বাংলার অ্যাথলেটিক্স দুনিয়ায় পরিচিত নাম হয়ে উঠেছেন।

স্বপ্ন এখন আন্তর্জাতিক মঞ্চ
এই তরুণ প্রতিযোগীদের চোখে এখন একটাই স্বপ্ন – জাতীয় স্তর পেরিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের হয়ে সাফল্যের শিরোপা জেতা। সেই লক্ষ্যে তাঁরা প্রতিদিন মাঠে নেমে ঘাম ঝরাচ্ছেন, আরও ভাল করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

দ্রোণাচার্য সৌভিক আইচের হাতে গড়ে ওঠা এই প্রতিভারা আজ যেন হয়ে উঠেছেন জেলার গর্ব, রাজ্যের গর্ব। তাঁদের এই সাফল্য প্রমাণ করে, ইচ্ছে আর লড়াইয়ের মানসিকতা থাকলে প্রত্যন্ত গ্রামের মাটি থেকেও আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়া ক্ষেত্রে পৌঁছনো সম্ভব।