‘ভিটেমাটি বেচে আদায় করব টাকা!’ গুন্ডাদের জন্য বিধানসভায় কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

তৃণমূলের জমানা অতীত, রাজ্যে এখন বিজেপি সরকার। এই বদলের সুরকে আরও জোরালো করতে এবার কড়া আইনি পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। বিধানসভায় আজ পেশ করা হলো ঐতিহাসিক ‘গুন্ডাদমন বিল’। এই বিল পেশ করার সময় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যে সুর চড়ালেন, তাতে বিরোধী শিবির কার্যত স্তব্ধ। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, রাজ্যে গুন্ডামি করার দিন শেষ। এখন থেকে আইন ভাঙলে শুধু জেল নয়, চরম মূল্য চোকাতে হবে অপরাধীদের।
বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “যা হওয়ার তা অতীত হয়ে গিয়েছে। অতীতে কী হয়েছে তা নিয়ে পড়ে থাকতে চাই না, কিন্তু ভবিষ্যতে রাজ্যে আর কোনো রকম গুন্ডামি করতে দেব না।” মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিটি শব্দে ছিল কঠোর শাসনের বার্তা। তিনি আরও বলেন, “যদি কেউ সরকারি বা বেসরকারি সম্পত্তিতে হাত দেয়, তবে তাকে ছেড়ে কথা বলা হবে না। আমরা শুধু জেল খাটাব না, তিন গুণ টাকা জরিমানা আদায় করব। যদি অপরাধীর টাকা না থাকে, তবে তার ভিটেমাটি বেচে সেই টাকা আদায় করা হবে।”
মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার বিশেষ দিক হলো সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার পরিকল্পনা। তিনি জানিয়েছেন, দ্রুততার সঙ্গে অপরাধীর সমস্ত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ‘অ্যাটাচমেন্ট’ বা বাজেয়াপ্ত করা হবে। পরে সেই সম্পত্তি নিলাম করে সরকারি ক্ষতিপূরণ আদায় করা হবে। বিগত পনেরো বছরে পুলিশকে বারবার আক্রমণের শিকার হতে হয়েছে। সেই প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “পুলিশকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমার প্রধান দায়িত্ব। কর্তব্যরত পুলিশকে আক্রমণ করলে বা সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর করলে এক ইঞ্চিও এগোতে দেব না। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশকে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা দেওয়া হবে।”
বিধানসভার অন্দরে শুভেন্দুর এই কড়া মনোভাবকে রাজনৈতিক মহল ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি হিসেবেই দেখছে। তৃণমূল জমানার শেষ কয়েক বছরে পুলিশের মনোবল ভেঙে পড়ার অভিযোগ বারবার উঠেছিল। নতুন সরকারের এই ‘গুন্ডাদমন বিল’ পুলিশকে আক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করবে এবং দুষ্কৃতীদের মনে ভয়ের সঞ্চার করবে বলেই মনে করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে বলেন, “আপনারা একদম নিশ্চিন্ত থাকুন। বিজেপি সরকার মানেই শৃঙ্খলাপরায়ণ শাসন। অপরাধীকে শাস্তি পেতেই হবে, সেই পথ এখন প্রশস্ত।” এখন দেখার বিষয়, এই ঐতিহাসিক বিল পাশ হওয়ার পর রাজ্যের অপরাধ গ্রাফ কতটা নিচে নামে।