সরকারি কর্মীদের জন্য বিরাট সুখবর! পুজোর আগেই ৩৮% ডিএ, জেনে নিন কবে মিলবে বাড়তি টাকা

রাজ্যের সরকারি কর্মীদের জন্য অপেক্ষা করা দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে। ষষ্ঠ পে কমিশনের আওতায় মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (DA) এক লাফে ২০ শতাংশ বৃদ্ধির অনুমোদন দিল বর্তমান বিজেপি সরকার। দীর্ঘদিনের দাবি মেনে এই ঘোষণার ফলে রাজ্যের সরকারি কর্মচারী, আধা-সরকারি কর্মী এবং শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের ডিএ বেড়ে দাঁড়াল ৩৮ শতাংশে।
এতদিন রাজ্যের সরকারি কর্মীরা ১৮ শতাংশ হারে ডিএ পাচ্ছিলেন। এবার ২০ শতাংশ বৃদ্ধির ফলে সেই হার ৩৮ শতাংশে উন্নীত হলো। যদিও এর ফলে কেন্দ্র ও রাজ্যের ডিএ হারের ফারাক এখনও ২২ শতাংশ রয়ে গেছে, তবুও পুজোর মুখে এই ঘোষণাকে ‘বড় উপহার’ হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্ট মহল। রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাসগুপ্ত জানিয়েছেন, নতুন হার অনুযায়ী আগামী ১ অক্টোবর থেকে কর্মীরা বর্ধিত ডিএ পাবেন।
তবে এই ঘোষণা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে নতুন সমীকরণ। শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের বিভিন্ন সংগঠন এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও, তাঁদের মনে এখনও কিছুটা ক্ষোভ রয়ে গেছে। বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডলের দাবি, ২০ শতাংশ বৃদ্ধি ইতিবাচক হলেও, বাকি ২২ শতাংশ বকেয়া ডিএ চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই পরিশোধের আবেদন জানানো হবে।
অন্যদিকে, শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিঙ্কর অধিকারী আরও এক ধাপ এগিয়ে সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন। তাঁর মতে, বর্ধিত এই ২০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা অক্টোবর থেকে নয়, বরং জুলাই মাস থেকেই কার্যকর করা উচিত। সরকারি কর্মীদের বকেয়া পাওনা মিটিয়ে দিতে জুলাই থেকে কার্যকর করার এই দাবি এখন জোরদার হচ্ছে।
এই ডিএ বৃদ্ধির ফলে রাজ্যের লাখ লাখ সরকারি কর্মচারী, শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মচারীদের বেসিক পে অনুযায়ী বেতনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে। পুজোর উৎসবের মরসুমে হাতে বাড়তি টাকা আসায় সাধারণ কর্মীদের মধ্যে আনন্দের বাতাবরণ তৈরি হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, সরকারি ঘোষণার ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়ার সিদ্ধান্তেই সরকার অটল থাকে, নাকি শিক্ষক সংগঠনের চাপের মুখে পড়ে ডিএ কার্যকর করার তারিখ জুলাই মাসেই পিছিয়ে আনা হয়। আপাতত সরকারি মহলে এই ঘোষণা ঘিরে আলোচনা তুঙ্গে।