ভাষার চাপে বিএলও’র আত্মহত্যা! এবার আসানসোলে বিশেষ উদ্যোগ, সাঁওতালিতে ফর্ম ভরা শেখাচ্ছে প্রশাসন

রাজ্যজুড়ে চলছে ‘স্পেশাল সামারি রিভিশন’ (এসআইআর)-এর কাজ। গত ৪ নভেম্বর থেকে এন্যুমারেশন ফর্ম বিতরণের পর বিএলও (বুথ লেভেল অফিসার)-রা এখন ফর্ম সংগ্রহে নেমেছেন। এরই মধ্যে ফর্ম পূরণের সময় রাজ্যের নানা প্রান্তে ভাষাগত জটিলতা নিয়ে গুরুতর সমস্যা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি জলপাইগুড়ির হিন্দিভাষী এলাকায় ভাষাগত চাপের শিকার হয়ে এক বিএলও-র আত্মহত্যার অভিযোগ ওঠে, যা প্রশাসনকে নড়েচড়ে বসতে বাধ্য করেছে। এই প্রেক্ষাপটে, পশ্চিম বর্ধমান জেলা প্রশাসন আসানসোলে এক বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করেছে, যেখানে আদিবাসী এলাকায় সাঁওতালি ভাষায় ফর্ম ভরা শেখানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মহকুমাশাসকের তত্ত্বাবধানে বিশেষ ক্যাম্প
আসানসোল একটি মিশ্র সংস্কৃতির এলাকা হওয়ায়, বাংলায় লেখা এসআইআর ফর্ম নিয়ে ভিন্ন ভাষাভাষীর মানুষের সমস্যা হতে পারে—এই আশঙ্কা আগেই রাজনৈতিক দলগুলি সর্বদলীয় বৈঠকে তুলেছিল। প্রশাসন সেই সময় আশ্বাস দিয়েছিল যে, যেখানে অসুবিধা হবে, সেখানে প্রশাসকরা নিজে গিয়ে সহায়তা করবেন।
সেই প্রতিশ্রুতি মতো, আসানসোলের মহকুমাশাসক বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্যের তত্ত্বাবধানে এই বিশেষ ক্যাম্পটি পরিচালিত হয়। দাসোপাড়া এবং বীরপাড়া এলাকার আদিবাসী বাসিন্দারা বাংলায় লেখা এসআইআর ফর্ম বুঝতে পারছিলেন না। ফর্ম হাতে পেলেও তা জমা দিতে পারছিলেন না তাঁরা।
বিএলও-দের মাধ্যমে এই সমস্যার কথা জানতে পারেন আসানসোলের ইআরও তথা মহকুমাশাসক বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য। তিনি নিজেই বিষয়টির গুরুত্ব বুঝে দ্রুত পদক্ষেপ নেন। জোড়ডাঙা আড়াডাঙা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিবির করে আদিবাসী ভাষায় ফর্মের খুঁটিনাটি বুঝিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়, যাতে বাসিন্দারা নিজেরাই ফর্মের কলামগুলো নিজেদের ভাষায় বুঝে পূরণ করতে পারেন।
প্রশাসনের তৎপরতা
মহকুমাশাসক বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য জানান, “আদিবাসী কর্মীরা যারা আমাদের পশ্চিম বর্ধমান জেলা প্রশাসনে কাজ করেন, তাঁদেরকে নিয়ে গিয়ে তাঁদের ভাষায় ফর্মের সবটা বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাসিন্দারা ফর্মের সবটা বুঝতে পেরেছেন এবং দ্রুত বিএলওদের সহায়তায় তাঁরা ফর্ম ভর্তি করে জমা করে দেবেন।”
তিনি আরও বলেন, “যেখানে যেখানে অসুবিধা হচ্ছে সেখানেই আমরা ছুটে যাচ্ছি এবং যাতে খুব সুষ্ঠুভাবে এসআইআর-এর কাজ সম্পন্ন হয় তা আমরা লক্ষ্য রাখছি। আশা করছি, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ হয়ে যাবে।”
জেলাশাসক ও মহকুমাশাসক এসআইআর সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান করতে জেলার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাচ্ছেন। এই বিশেষ উদ্যোগটি সুষ্ঠুভাবে এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে মনে করা হচ্ছে।